‘বিএনপি-জামায়াতের ইন্দনে ভিসির বাসভবনে হামলা’

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০১৮, ২০:২২
সরকারি চাকুরিতে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের বাসভবনে হামলায় বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠির ইন্দন ছিলো বলে মন্তব্য করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ এমপি। মঙ্গলবার (১০ এপ্রিল) বিকেলে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির নিয়মিত সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, আজকে বিএনপির বিবৃতির মাধ্যমে এটাই স্পষ্ট হয়েছে যে এতে বিএনপি-জামায়াত গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে। এখানে তারা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে চায়।
 
হাছান মাহমুদ বলেন, যেখানে সরকারের প্রতিনিধি দল আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বসেছেন এবং আলাপ আলোচনা করেছেন এর পরে ভিসির বাসভবনে হামলা এটাই প্রমাণ করে ইতোপূর্বে যারা পেট্রোল বোমা মেরে জিবন্ত মানুষকে পুড়িয়ে হত্যা করেছে, মানুষকে আগুন দিয়ে জ্বলসে দিয়েছে তারাই সেখানে ঢুকে এই নৈরাজ্য ওও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। গ্যাসের লাইন খুলে ভিসির বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দিতে চেয়েছিল এগুলো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড। মঙ্গল শোভাযাত্রার কার্যক্রম ব্যাহত করা, যারা মঙ্গল শোভাযাত্রা চায় না তারাই এগুলো করেছে।
 
তিনি বলেন, আগামী ১৫ই এপ্রিল মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশে উন্নিত হওয়ায় প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির পক্ষ থেকে একটি সেমিনার করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। এবং সেখানে উন্নয়নের তুলনামূলক সম্বলিত পুস্তিকা প্রকাশ করা হবে।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম বলেন, উপাচার্যের বাসভবনে যে হামলা হয়েছে এটা অত্যন্ত নিকৃষ্টজনক। অবশ্যই ধিক্কার জানানোর মতো। সংবাদপত্রের মাধ্যমে জানতে পারি যে উপাচার্যের স্ত্রী এবং সন্তানরাও নিরাপত্তাহীন হয়ে গিয়েছিল। যারা উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালিয়েছে তাদের যদি সৎসাহস থাকে তাহলে তারা মুখোশ পরে যাবে কেন? অবশ্যই এর পেছনে বড় কোনো ষড়যন্ত্র আছে।
 
তিনি বলেন, যুক্তিসঙ্গত আন্দোলন ছাত্ররা করতেই পারে। এর প্রতি আমাদের কোনো বিরূপ মনোভাব নেই। সরকারের তো একেবারেই নেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কেবিনেট মিটিং-এ গতকালই বলেছেন এ বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখার জন্য। এর আগে জনপ্রশাসন থেকে যে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয় তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের ভবনা ঠিক নয়। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ কোটা বা কোটা থেকে যদি পূরণ না হয় তাহলে সাধারণ থেকে পূরণ করা হবে। যেখানে সবাই আসতে পারবে। এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এখানে যদি কোনও ভুল-ভ্রান্তি থাকে তাহলে অবশ্যই সংশোধন করা হবে। সেজন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এটা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখছে।
 
কোটা পদ্ধতি এটি নতুন কিছু নয় দাবী করে আওয়ামী লীগের প্রচার উপ-কমিটির চেয়ারম্যান এইচ টি ইমাম বলেন, পাকিস্তান আমলে সব জায়গায়ই কোটা ছিল। যদি কোটা না থাকতো তখন আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়েও পিছিয়ে পড়ছিলাম। এটি রাখতে হয়। ভারতে কোটা পদ্ধতি চালু আছে। গতকাল ভারতের কয়েকজন নেতার সাথে কথা বলে জানতে পারলাম ভারতে কোটা ৫১ ভাগ। সেটি তারা বিভিন্নভাবে ভাগ করে থাকেন। যেমন পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, নিম্ন শ্রেণীর মানুষ, মেয়েদের জন্য এমনকি তাদের প্রতিটি রাজ্যের জন্য আলাদা আলাদা কোটা ব্যবস্থা চালু আছে।
 
কোটা ব্যবস্থা অবশ্যই পরিবর্তনযোগ্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবর্তনশীল জগতে আমাদের বিবর্তন হচ্ছে জগতে। আমাদের শিক্ষার হার বাড়ছে, মেয়েরা শিক্ষা অনেকেই এসেছে। এসব গুলো নিয়েই আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গতকাল নির্দেশ দিয়েছেন যে কোটাব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখার জন্য।
 
নতুন করে ছাত্রদের আন্দোলন নিয়ে তিনি আরও বলেন, গতকাল ছাত্রদের প্রতিনিধিদল আমাদের মাননীয় সাধারণ সম্পাদক এবং সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সাথে দেখা করেছেন। সেখানে একটি সুন্দর সমাধান হয়েছে। আগামী এক মাসের মধ্যে এ বিষয়ে পর্যালোচনা করে নতুন কিছু করা হবে। এরপরে আর আন্দোলন করার কিছু নেই। এখানে অন্য কিছু আছে।
 
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বক্তব্যের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি'র প্রতিক্রিয়াতে আমার মনে হচ্ছে, ভাড়ার ঘরে কে রে, আমি তো কলা খাই না। আমরা তো বিএনপির কথা বলি নাই। এই ধরনের কথা বললে, আমরা অন্যরকম মনে করব। সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে আছে। কিন্তু উপাচার্যের বাসভবনে আক্রমণ চারুকলার মঙ্গল শোভাযাত্রার সবকিছু নষ্ট করে দেওয়া বেশকিছু আগেকার ঘটনার সাথে যোগ সূত্র আছে বলে আমরা মনে করছি।
 
এসময় উপস্থিত ছিলেন, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, দলের উপ-প্রচার সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিন, প্রচার উপ কমিটির সদস্য আশরাফ সিদ্দিকী বিটু, গিয়াস উদ্দিনসহ প্রমূখ।
 
ইত্তেফাক/কেআই