সরকারি ৯ খাতে দুর্নীতি প্রতিরোধে দুর্নীতি দমন কমিশন রাষ্ট্রপতির কাছে ৩০টি সুপারিশ জমা দিয়েছে। দুদকের দাবি এই ৩০টি সুপারিশ সরকার বিবেচনা করলে এই ৯ খাতে দুর্নীতি রোধ সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে এই ৯ খাতের বিভিন্ন কাজের দীর্ঘসূত্রতা লাঘব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা আরও নিশ্চিত হবে। দুদক যে ৯ খাতের কথা বলেছে সেগুলো হলো-শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর, গণপূর্ত অধিদপ্তর, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স, আয়কর বিভাগ, কাস্টমস ও ভ্যাট বিভাগ। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ রাষ্ট্রপতির কাছে ঐ সুপারিশমালা পেশ করেন।
এতে শিক্ষা খাতে দুর্নীতি রোধে ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করা হয়েছে। এর প্রথম দফায় বলা হয়েছে, সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে মানবসম্পদের ছড়াছড়ি হলেও পণ্য উত্পাদন ও সেবা খাতে কারিগরি জ্ঞানসম্পন্ন মানবসম্পদের অভাব রয়েছে। সে কারণে সর্বোচ্চ মেধাবীদের জন্যই কেবল উচ্চ শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত রাখা। দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, জাতীয় শিক্ষা নীতি অনুসারে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন করা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকগণকে ২য় শ্রেণি এবং প্রধান শিক্ষকগণকে প্রথম শ্রেণির পদমর্যাদা প্রদান করা। অপরদিকে প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে শিক্ষা বিষয়ক সুপারিশে বলা হয়েছে, প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধে সকল পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্ন সৃজনশীল ও বর্ণনামূলক করা এবং পরীক্ষা কেন্দ্রের সংখ্যা যতদূর সম্ভব কমিয়ে আনা।
সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের দুর্নীতি প্রতিরোধে প্রথম দফায় বলা হয়েছে, ওভার লোডিং-এর ফলে মহাসড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই ওভার লোডিং নিয়ন্ত্রণে ‘মোটরযানের এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র পরিচালনা সংক্রান্ত নীতিমালা-২০১২’ এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এর দ্বিতীয় দফায় বলা হয়েছে, প্রকল্পের ক্রয়, নির্মাণ, মেরামত ও সংস্কার কাজে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের নিমিত্ত স্টেক হোল্ডারদের সমন্বয়ে গণশুনানি ও ‘সামাজিক নিরীক্ষার’ আয়োজন করা যেতে পারে। তৃতীয় দফায় বলা হয়েছে প্রকল্প বাস্তবায়নের পরবর্তী একটি যৌক্তিক সময় পর্যন্ত উক্ত কাজের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব নিজ খরচে বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠানের ওপর আইনানুগভাবে অর্পণ করা।
গণপূর্ত অধিদপ্তর-এর দুর্নীতি রোধে বলা হয়েছে, প্রকল্প নির্বাচন করার সময় উক্ত প্রকল্পের যথার্থতা বা উপযোগিতা আছে কিনা তা গণপূর্ত অধিদপ্তর ও চাহিদা প্রদানকারী সংস্থাকে নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া প্রকল্প বাস্তবায়নে যাতে অহেতুক অযৌক্তিক সময় বাড়ানো না হয় সেদিকে বিশেষ দৃষ্টি রাখতে হবে।
চট্টগ্রাম বন্দর-এর দুর্নীতি রোধে বলা হয়েছে, বন্দর ব্যবস্থাপনা ও কার্যক্রম পরিচালনায় দৈনন্দিন যান্ত্রিক মেরামতের উদ্দেশ্যে লিমিটেড টেন্ডারিং মেথড (এলটিএম) এর মাধ্যমে বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্রয় নিরুত্সাহিত করে ওপেন টেন্ডারিং মেথড (ওটিএম) এর মাধ্যমে যন্ত্রাংশ ক্রয়ে প্রাধান্য দিতে হবে।
স্থলবন্দরের দুর্নীতি প্রতিরোধে বলা হয়েছে, মালামাল হ্যান্ডলিংয়ে গতিশীলতা বৃদ্ধি ও স্বচ্ছতা আনয়নে পর্যায়ক্রমে সকল স্থলবন্দরে অটোমেশন সিস্টেম চালু করা।
বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স-এর দুর্নীতি রোধে বলা হয়েছে, বিমানের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ক্রয়ের তালিকা, কখন কেনা হয়েছে, কি দামে কেনা হয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠানের নিকট থেকে কেনা হয়েছে, কত টাকা মূল্য পরিশোধ করা হয়েছে এসব রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করে দুর্নীতির চিত্র বোর্ড সভায় উপস্থাপন করা যেতে পারে।
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতি রোধে বলা হয়েছে, ইন্টার্নশিপ ১ বছর থেকে বাড়িয়ে দুই বছর করা এবং বর্ধিত এক বছর উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে থাকা বাধ্যতামূলক করা। চিকিত্সকদের জন্য যুগোপযোগী ক্যারিয়ার প্লানিং এবং বদলি নীতিমালা প্রণয়ন করা। এছাড়া চিকিত্সকদের পদোন্নতি বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশনের পরীক্ষার মাধ্যমে সম্পন্ন করা। অপর দিকে সকল প্যাথলজিক্যাল ডায়গনস্টিক সেন্টারসমূহে প্রতিটি পরীক্ষার সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল্য সরকারিভাবে নির্ধারণ করা। এবং চিকিত্সকদের ব্যবস্থাপত্রে ওষুধের ব্রান্ড নাম না লিখে জেনেরিক নাম লেখা বাধ্যতামূলক করা।
আয়কর বিভাগ-এর দুর্নীতি রোধে বলা হয়েছে, আয়কর আদায় সংক্রান্ত কার্যক্রম দ্রুত ও দুর্নীতিমুক্ত করার উদ্দেশ্যে আয়কর নথি ব্যবস্থাপনার জন্য ডিজিটালাইজ্ড জরুরি।
ইত্তেফাক/নূহু
