মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ বছর করা উচিত ছিলো: হাইকোর্ট

আপডেট : ১১ এপ্রিল ২০১৮, ২২:০৮
সরকারি চাকরিরত মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬০ বছর নির্ধারণ করে করা আইন বাতিল ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছে, মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৬১ বছর না করে ৬০ বছর নির্ধারণ করা ছিলো বৈষম্যমূলক। এটা সংবিধানের ২৭, ২৯ ও ৩১ অনুচ্ছেদের পরিপন্থী। এ কারণে অবসর সংক্রান্ত এই বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করা হলো। 
 
এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর ও বিচারপতি একেএম সাহিদুল হকের ডিভিশন বেঞ্চ বুধবার এই রায় দেন।
 
রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা সাধারণ কর্মচারীদের চেয়ে ২ বছর বৃদ্ধি করে ৬১ বছর করার সিদ্ধান্ত দেয়। ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে বলেছিল। কিন্তু সেটা বাস্তবায়ন না করে এক বছর বৃদ্ধি করে। যা মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি অসম্মানের শামিল। ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের ৬১ বছর পর্যন্ত সরকার সকল সুবিধা দেবে বলে আদালত মনে করে। 
 
আদালত বলেন, যদি সরকার কখনো সাধারণ কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা বাড়ায় তাহলে মুক্তিযোদ্ধাদের ক্ষেত্রে তা দুই বছর বেশি রাখতে হবে। 
১৯৭৪ সালের গণকর্মচারী (অবসর) আইন সংশোধন মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়সসীমা ৫৭ থেকে ৫৯ বছর করা হয়। ২০১৩ সালে ওই আইন পুনরায় সংশোধন করে সরকারি চাকরিরত মুক্তিযোদ্ধাদের অবসরের বয়স নির্ধারণ করা হয় ৬০ বছর। আর সাধারণ কর্মচারীদের নির্ধারণ করা হয় ৫৯ বছর।
 
কিন্তু অবসরের বয়সসীমা ৬১ বছর না করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংকের মহা ব্যবস্থাপক মুক্তিযোদ্ধা তপন কুমার সাহা ও সোনালী ব্যাংকের উপ মহা ব্যবস্থাপক মশির উদ্দিন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সরকারি চাকরির অবসরের বয়সসীমা দুই বছর বাড়ানোর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন। 
 
এ ছাড়া ‘গণকর্মচারী (অবসর) (সংশোধন) আইন, ২০১৩ এর ধারা ৪ (অ) (১) কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না রুলে তাও জানতে চাওয়া হয়। 
 
আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার এবিএম সিদ্দিকুর রহমান খান এবং রাষ্ট্রপক্ষে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এএসএম নাজমুল হক শুনানি করেন। শুনানি শেষে হাইকোর্ট এ রায় দেন। 
 
রায়ে বলা হয়, সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ছিল ৫৭ বছর। সেখানে মুক্তিযোদ্ধাদের বয়সসীমা ২ বছর বাড়িয়ে ৫৯ বছর করে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করে। কিন্তু পরবর্তীতে সকল সরকারি কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৫৯ বছর করে সরকার। এ অবস্থায় মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানিত করতে অবসরের বয়সসীমা একবছর বৃদ্ধি করে। প্রথমে দুই বছর বৃদ্ধি করে পরে এক বছর বৃদ্ধি করা সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
 
এএসএম নাজমুল হক সাংবাদিকদের বলেন, এ রায়ের ফলে মুক্তিযোদ্ধাদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৫৯ হলো। তবে ৬১ বছর পর্যন্ত সুবিধা পাবেন কিনা সেটা সরকারের সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি বলেন, সরকারি চাকরিতে অবসরের বয়সসীমা নির্ধারণ সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। 
 
ইত্তেফাক/কেআই