যুক্তরাষ্ট্রের রিপাবলিকান পার্টির প্রভাবশালী নেতা, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের স্পিকার পল রায়ান সরে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ায় বড় ধাক্কা খেতে যাচ্ছে ক্ষমতাসীনরা। রায়ান জানিয়েছেন নিজের আসনে পুনরায় নির্বাচন করবেন না তিনি। আগামী বছরের শুরুতেই মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষের স্পিকার পদ থেকেও সরে যাবেন। বিশ্লেষকরা বলছেন, পল রায়ানের এ ঘোষণা ২০১৮ সালের নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তার দল ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য একটি বড় ধাক্কা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবরে বলা হয়েছে, প্রতিনিধি পরিষদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে ইতিমধ্যে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে রিপাবলিকানরা। এখন পর্যন্ত রায়ানসহ ৩০ জন কংগ্রেসম্যান অবসরে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। বর্তমান অবস্থায় নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে ২৩টি আসন দরকার রয়েছে ডেমোক্র্যাটদের।
গত বুধবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে রাজনীতি থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন রায়ান। এজন্য তিনি পারিবারিক কারণ উল্লেখ করেন। রিপাবলিকানদের যখন মার্কিন কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা ও ট্রাম্পের এজেন্ডা নিয়ে অগ্রসর হওয়ার সময় এসেছে তখন রায়ানের সিদ্ধান্ত অনেককেই হতাশ করেছে। এছাড়া পরবর্তী স্পিকার কে হবেন তা নিয়ে দলের মধ্যে এক ধরনের কোন্দলও তৈরি হতে যাচ্ছে।
খবরে আরো বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার মেয়াদে এখন পর্যন্ত বেশ কয়েক জন কর্মকর্তা ও মন্ত্রীকে বরখাস্ত করেছেন এবং অনেকেই পদত্যাগ করেছেন। তবে পল রায়ানের ঘোষণা তার জন্য সর্বশেষ বড় ধাক্কা।
এদিকে নভেম্বরে মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের দুই কক্ষেই নিয়ন্ত্রণ হারাতে পারে রিপাবলিকানরা। যুক্তরাষ্ট্রের জনমত গুরু হিসেবে পরিচিত ফ্রাঙ্ক লুনটজ ফক্স নিউজকে বলেন, রিপাবলিকানদের এই ভাগ্য ঝুলে যাওয়ার জন্য প্রেসিডেন্ট ডেনাল্ড ট্রাম্পও দায়ী। ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে অর্থনীতি সমৃদ্ধ হলেও যথাযথ স্বীকৃতি আদায়ে ব্যর্থ হয়েছেন প্রেসিডেন্ট। অন্যদিকে ট্রাম্পের ২০১৮ সালের মেক্সিকো সীমান্ত দেয়ালের মতো এজেন্ডা তেমন সাড়া ফেলতে পারেনি।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
