ঢাকার নবাবগঞ্জ উপজেলায় নিখোঁজের ৫ দিন পর নার্গীস আক্তার (৪০) ও ময়না বেগম (৫৫) নামে দুই নারীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে নবাবগঞ্জ থানা পুলিশ। নিহত নার্গীসের বড় ছেলে তানভীর আহম্মেদের অভিযোগ, তার মা নার্গীস আক্তার ও মায়ের বান্ধবী ময়না বেগমকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা চকের একটি পুকুর থেকে ঐ দুই নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত নার্গীস আক্তার উপজেলার যন্ত্রাইল গ্রামের ইমান আলীর স্ত্রী এবং ময়না বেগম পার্শ্ববর্তী আজিজপুর গ্রামের জামাল খানের স্ত্রী বলে জানা গেছে।
নবাবগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) কামরুল হাসান জানান, শুক্রবার দুপুরে শোল্লা ইউনিয়নের সুলতানপুর এলাকার আওনা চকের একটি পুকুরে এক নারী পানি আনতে গিয়ে দেখেন ঐ দুই নারীর লাশ পুকুরে ভাসছে। এসময় তিনি এলাকাবাসীকে জানালে তারা পুলিশকে জানায়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। এটা হত্যাকাণ্ড বলে প্রাথমিক ধারণা করা হচ্ছে। লাশ ময়না তদন্তের জন্য ঢাকা মিটফোর্ড হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট পেলে সঠিক তথ্য জানা যাবে।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ৯ মার্চ সন্ধ্যার পর নার্গীস আক্তারকে কে বা কারা তার মোবাইলে ফোন করে। এসময় নার্গীসের বাড়িতে ময়না বেগম উপস্থিত ছিলেন। মোবাইল ফোনে কথা বলা শেষে তারা দুজন ঘর থেকে বের হয়ে যায়। উভয় পরিবার থেকে ফোন করলে নার্গীসের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায় ও ময়নার মোবাইল খোলা থাকলেও তিনি রিসিভ করেন না। পরিবারের লোকজন তাদের অনেক খোঁজাখুজি করে না পেয়ে ১০ মার্চ রাতে নার্গীসের ছেলে তানভীর আহম্মেদ তার মা ও মায়ের বান্ধবীর নিখুঁজের বিষয় নিয়ে নবাবগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করেন।
ময়না বেগমের মেয়ে শিপন আক্তার জানান, ৯ মার্চ সন্ধ্যার দিকে তার মা ময়না বেগম বাড়ি থেকে বের হন। সন্ধ্যায় মায়ের সাথে তার কথা হয়। এর এক ঘণ্টা পর একাধিকবার ফোন দিলে তার মা ফোন রিসিভ করেন না। তবে তার মায়ের সাথে কারো শত্রুতা নেই বলে জানান। তার মাকে যারা হত্যা করেছেন তাদের খোঁজে বের করে ফাঁসির দাবি জানান তিনি।
ইত্তেফাক/এমআই
