মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ফেরার সহায়ক পরিবেশ জরুরি: ইউএনএইচসিআর

আপডেট : ১৩ এপ্রিল ২০১৮, ২১:৪২
মিয়ানমারে সেনা নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের স্বেচ্ছা প্রত্যবাসনের জন্য জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা- ইউএনএইচসিআরের সাথে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে বাংলাদেশ।  
 
শুক্রবার জেনেভায় পররাষ্ট্র সচিব মো. শহীদুল হক ও জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি এই এমওইউতে সই করেন। এর মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের সহায়ক পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সাথে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে বাংলাদেশ ও ইউএনএইচসিআরের মধ্যে সহযোগিতার ‘ফ্রেমওয়ার্ক’ গ্রহণ করা হয়েছে। ইউএনএইচসিআর বলেছে, রোহিঙ্গাদের ফেরত পাঠানোর জন্য মিয়ানমারে যথাযথ পরিবেশ এখনো হয়নি। সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করার দায়িত্ব মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের।
 
ঢাকায় প্রাপ্ত খবরে বলা হয়েছে, বিপদগ্রস্ত রোহিঙ্গাদের আশ্রয়, সুরক্ষা ও সহায়তা দেওয়ায় ইউএনএইচসিআর বাংলাদেশের সরকার ও জনগণের প্রশংসা করেছে। রোহিঙ্গাদের আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নিরাপদে, স্বেচ্ছায় ও সম্মানের সাথে ফেরত পাঠানো নিশ্চিত করতে ইউএনএইচসিআর, বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে কোনো ত্রিপক্ষীয় চুক্তি না হওয়ায় সংস্থাটি দুই দেশের সাথে আলাদা এমওইউ সই করার জন্য আলোচনা করছে। 
 
এমওইউ অনুযায়ী, রোহিঙ্গাদের তথ্য সরবরাহ, কাঠামো তৈরির জন্য জমি দেওয়া ও অন্যান্য সুবিধা নিয়ে কাজ করবে সরকার। অন্যদিকে রোহিঙ্গাদের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া, তাদের অস্থায়ী ক্যাম্পে নিয়ে যাওয়া, চিকিত্সা ব্যবস্থাসহ অন্যান্য সুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার পর রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও সম্মানের সাথে বেঁচে থাকার বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করবে ইউএনএইচসিআর। এর আগে গত জানুয়ারিতে সরকার ও শরণার্থী সংস্থা তথ্য সরবরাহ সংক্রান্ত একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছিল, যা মূল প্রত্যাবাসন চুক্তির সহায়ক হিসেবে কাজ করবে।
ইউএনএইচসিআর বলেছে, রাখাইনে শুধু অবকাঠামো উন্নয়নের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে হবে না। রোহিঙ্গাদের জন্য আইনি মর্যাদা ও নাগরিকত্ব, নিরাপত্তা ও নিজ রাজ্য রাখাইনে মৌলিক অধিকার পাওয়ার বিষয়ে বাস্তব অগ্রগতি হওয়া প্রয়োজন। 
 
উল্লেখ্য, মিয়ানমারে সহিংসতার হাত থেকে বাঁচতে গত বছরের আগস্ট থেকে প্রায় সাত লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এই রোহিঙ্গাদের প্রত্যবাসনে ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে চুক্তি সই হয়েছে। যদিও প্রত্যাবাসন এখনো শুরু হয়নি।
 
ইত্তেফাক/এমআই