আলমডাঙ্গায় দশ দিনের মাথায় বাবু নামের আরো এক কৃষকককে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে দূর্বৃত্তরা। বাবুর কোমরে অসংখ্য কোপানোর পর গলা কেটে দেহ থেকে মস্তক বিচ্ছিন্ন করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। বুধবার রাতভর নিখোঁজ থাকার পর আজ বৃহস্পতিবার সকালে হত্যার শিকার বাবুর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে হাসাপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। পুলিশ ওই গ্রাম থেকে সন্দেহজনকভাবে তিনজনকে আটক করেছে। বাবু (৫৮) গড়চাপড়া পূর্বপাড়ার মৃত শুকুর আলীর ছেলে।
খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তরিকুল ইসলাম ও থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ঘটনাস্থলে ছুটে যান। এ সময় গ্রামের উৎসুক জনতা বাবুর গলাকাটা লাশ দেখতে ঘটনাস্থলে ভীড় করেন।
থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে জানান, হত্যার শিকার বাবুর বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ রয়েছে। তার নামে থানায় একটি হত্যা, ডাকাতি ও দস্যুপনার কয়েকটি মামলা রয়েছে। পূর্ব শক্রতার জের ধরে তাকে হত্যা করা হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ঘাতকদের আটক করে আইনের আওতায় আনা হবে।
নিহতের স্ত্রী মমতাজ বেগম জানান, বুধবার বিকেলে মাঠ থেকে বাড়ি এসে ভাত খেয়ে তিনি আবারো বেরিয়ে যান। এরপর সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত গভীর হলেও তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। আমরা রাতভর তাকে খোঁজাখুঁজি করেও কোথাও পাইনি। সকাল ৬টার দিকে লোকমুখে আমার স্বামীর হত্যার খবর শুনতে পাই।
সরেজমিন গিয়ে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬ টার দিকে নিহতের বাড়ি থেকে একটু দূরের মাঠ ঘেষা একটি কুঁড়ে ঘরের ভেতর বাবুকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করে দূর্বৃত্তরা। কুঁড়েঘরের পাশ দিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় কৃষকরা খোলা ঘরময় রক্ত দেখে বাবুর লাশ সনাক্ত করেন। স্থানীয়রা জানায়, যে কুঁড়ে ঘরটিতে বাবুকে হত্যা করা হয় সেই ঘরটিতে একজন আশিউর্ধ্ব অচল বৃদ্ধ বাস করতেন। তবে সকাল থেকে সেই বৃদ্ধকেও আর কোথাও দেখা যায়নি। তবে কুঁড়ে ঘরটির পাশেই আরো কয়েকটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে ওই ঘরটিতে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা ঘটনায় রহস্যময়তার সৃষ্টি করেছে। বাবুর কোমরে রামদা দিয়ে অসংখ্যবার কোপানো হয়। এরপর তার গলা কেটে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়।
আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত সন্দেহে গড়চাপড়া গ্রাম থেকে আব্দুল গনি মণ্ডলের দুই ছেলে আব্দুল হালিম ও সোহেল এবং আব্দুল মজিদের ছেলে দুদুকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ এদেরকে জিজ্ঞসাবাদ করছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নিহত বাবুর চার মেয়ের মধ্যে বড় মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। মেজ মেয়ে কলেজে পড়ছে। সেজ মেয়ে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী। ছোট মেয়ে এখনও দুধের শিশু। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোন মামলা হয়নি।
ইত্তেফাক/কেআই
