রাজধানীর বাড্ডা থানার বেরাইদে বালু নদের তীরে আওয়ামী লীগের স্থানীয় এমপির ভাগ্নে ফারুক আহমেদের ক্যাডার বাহিনীর গুলিতে কামরুজ্জামান দুখু নিহতের ঘটনায় গতকাল একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। নিহতের বড় ভাই বেরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান হাজী জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য রহমতউল্লাহর দুই ভাগ্নে ফারুক আহমেদ ওরফে ভাগ্নে ফারুক ও আইয়ুব আনসার মিন্টুসহ ২৭ জনকে আসামি করা হয়েছে। তবে গতকাল রাত ১১টা পর্যন্ত এ ঘটনায় এজাহারভুক্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।
গত রবিবার বিকালে বেরাইদে ভাগ্নে ফারুকের নেতৃত্বে একটি সশস্ত্র গ্রুপ গুলি করলে কামরুজ্জামান দুখু নিহত ও ১০ জন আহত হয়। আহতদের মধ্যে এ্যাপোলো হাসপাতালে চিকিত্সাধীন বেরাইদ ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলমের ছোট ভাই কামাল হোসেনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। গতকাল চিকিত্সকরা জানিয়েছেন, তার এক চোখ অন্ধ হয়ে গেছে। অপারেশন করে ক্ষতিগ্রস্ত চোখ সরিয়ে ফেলা হয়েছে। অপর চোখের অবস্থাও তেমন ভালো নয়। এই চোখের দৃষ্টি শক্তি তিনি নাও ফিরে পেতে পারেন।
গতকাল বাড্ডা থানার ওসি কাজী ওয়াজেদ আলী বলেন, দায়ের করা মামলায় উল্লেখ করা আসামিদের গতকাল পর্যন্ত আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেফতারের অভিযান চলছে। মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বালু নদের পাড়ে একটি সিমেন্ট কোম্পানির রেডিমিক্স ফ্যাক্টরিতে কাঁচামাল সরবরাহ করতেন কামরুজ্জামান দুখু। চলতি মাসের শুরুতে ভাগ্নে ফারুকের সহযোগীরা কামরুজ্জামানের কাঁচামাল সরবরাহের কাজ বন্ধ করে দেয়। ভাগ্নে ফারুকের চাচাত ভাই মারুফ কাঁচামাল দেওয়া শুরু করে ওই ফ্যাক্টরিতে। রবিবার দুপুরে ভাতিজা আল হাকিম ও ভাগ্নে সানিকে নিয়ে কামরুজ্জামান ওই ফ্যাক্টরিতে বকেয়া বিল জমা দিতে যান। সে সময় ফারুক ও আইয়ুবের সহযোগীরা তাদের মারধর করে। পরে কামরুজ্জামান বাড়িতে ফিরে স্বজনদের জানান। বিকালে কামরুজ্জামানসহ ১০-১২ জন ফের বালু নদের দিকে যাচ্ছিলেন। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে আসামিরা শর্টগান ও পিস্তল সজ্জিত হয়ে তাদের ওপর হামলা চালায় ও গুলি বর্ষণ করে। এতে কামরুজ্জামান নিহত ও আহত হন ১০ জন।
