কিম জং উন এবং মুন জায়ে ইনের মধ্যে বৈঠক নিয়ে গতকাল বিশ্বজুড়ে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। বিশ্ব গণমাধ্যমে প্রতিমুহূর্তে এই বৈঠকের লাইভ সম্প্রচার হয়েছে। এই বৈঠকের দিনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তের উল্লেখ করেছে ব্রিটিশ গণমাধ্যম বিবিসি।
খবরে বলা হয় অন্যতম সবচে গুরুত্বপূর্ণ ও আকর্ষণীয় মুহূর্ত ছিল দুই নেতার ঐতিহাসিক করমর্দনের সময়টা। হাজার হাজার মানুষ এই দৃশ্য উপভোগ করে। বিশ্ব গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের আকর্ষণের কেন্দ্রেও ছিল এই দৃশ্যটি। তারা নিজেদের মিডিয়ার জন্য ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। কিম জং উন দক্ষিণ কোরীয় নেতার সঙ্গে হাত মেলানোর পর হাল্কা রসিকতাও করেন। এরপর জানতে চান তিনি কেমন আছেন।
মানুষের কাছে আরেক আকর্ষণের বিষয় ছিল উত্তর কোরীয় নেতার নিরাপত্তার বিষয়টি। দুই দেশের পক্ষ থেকেই ব্যাপক নিরাপত্তার আয়োজন করা হয়। তবে নিরাপত্তার বাড়াবাড়ি থাকলেও মানুষ মোটেও বিরক্ত হয়নি। তাদের আগ্রহ ছিল বরং উত্তর কোরীয় নেতাকে একনজর দেখতে এবং তার মুখের কথা শুনতে। কিম দক্ষিণ কোরিয়ার অতিথি হলেও তিনি যখন যে কক্ষে গেছেন তার গার্ড কমান্ডোরা আগে সেই রুমে ঢুকে রুমটা পরীক্ষা করেছেন। তারা পরীক্ষা করে দেখেন রুমে কোনো গোপন ক্যামেরা, মাইক্রোফোন, আড়ি পাতার যন্ত্র কিংবা বিস্ফোরকের উপস্থিতি আছে কি না। এখানেই শেষ নয়, কিম যখন যে চেয়ারে বসেছেন সেগুলোতে আগেভাগেই তার বিশেষ কমান্ডোরা স্যানিটাইজার স্প্রে করে দিয়েছেন। আর কিম যখন তার গাড়িতে উঠেছেন তখন গাড়িটি চলার সাথে সাথে তার কয়েক ডজন কমান্ডো বডিগার্ড গাড়ির চারপাশে মানববর্ম তৈরি করে গাড়ির সাথে সাথে টানা কয়েক মিনিট দৌড়েছেন। পশ্চিমা গণমাধ্যমে একে ‘শক্তির’ প্রদর্শনী হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে।
দুই কোরিয়ার বৈঠকের দিনে আরেকটি আলোচনার বিষয় হয়েছে স্যালুট। উত্তর কোরীয় নেতাকে সম্মান জানাতে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জেনারেল প্যাক ইয়ং সিক এবং আর্মি জেনারেল স্টাফ ভাইস মার্শাল রি মিয়ং সু স্যালুট জানান। কিন্তু কিম তাদের পাল্টা স্যালুট জানাননি। এমনকি তাকে যখন দক্ষিণ কোরীয় সেনাবাহিনী গার্ড অব অনার দিচ্ছিল তখনও স্যালুট দেননি। অনেক বিশ্লেষক বলেছেন, সাদা চোখে যা দেখা যাচ্ছে তার সাথে বাস্তবতার এখনো অনেক ফারাক রয়ে গেছে। তারপরেও এই বৈঠক অনেক বিবেচনাতেই গুরুত্বপূর্ণ।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
