নেদারল্যান্ডে অবস্থিত নোবেল শান্তি পুরস্কার বিজয়ী ১৯২ সদস্য রাষ্ট্রের আন্তর্জাতিক সংগঠন ওপিসিডব্লিউর কার্যক্রমের সঙ্গে এসডিজি ২০৩০ এর ব্যাপক সমন্বয়ের প্রয়োজন। এ প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতা রাষ্ট্রদূত শেখ মুহম্মদ বেলাল গত ২৫ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চতুর্থ রিভিউ কনফারেন্সের সভায় বাংলাদেশের পক্ষে এ আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত বেলাল রাসায়নিক দ্রব্যের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য ওপিসিডব্লিউর সদস্য রাষ্ট্র সমূহের জাতীয় সংস্থার সঙ্গে ব্যাপক সমন্বয়ের মাধ্যমে রাসায়নিক দ্রব্যের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিতের জোরালো দাবি জানান। এ বিষয়ে বাংলাদেশের পক্ষে স্কুল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত রসায়ন বিষয়ে ব্যাপক গণসচেতনতা তৈরির জন্য উদ্ভাবনী প্রচেষ্টা গ্রহণের আবেদন জানান। বাংলাদেশের প্রস্তাবের প্রতি উপস্থিত সদস্য রাষ্ট্র সমূহের মধ্যে ব্যাপক সমর্থন লক্ষ্য করা গেছে।
রাসায়নিক দ্রব্যের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার নিশ্চিত করার জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সদস্য রাষ্ট্র সমূহের স্ব স্ব জাতীয় সংস্থার সঙ্গে ব্যাপক সমন্বয়ের মাধ্যমে ছাত্রী/ছাত্র বৃত্তিসহ নানাবিধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ওপিসিডব্লিউর কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে পরিচিতি লাভের উদ্যোগ নেয়ার জন্য দাবি জানানো হয়।
চতুর্থ রিভিউ কনফারেন্সের দায়িত্বপ্রাপ্ত সভাপতি ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত ভেসেকা পুজা বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে একমত পোষণ করে আসন্ন চতুর্থ রিভিউ কনফারেন্সে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রণয়নে প্রচেষ্টা নেয়া হবে মর্মে আশ্বস্ত করেন। রাষ্ট্রদূত বেলাল একইভাবে যে চারটি রাষ্ট্র যথা ইসরাইল, মিশর, দক্ষিণ সুদান এবং উত্তর কোরিয়াকে সদস্যপদ গ্রহণ করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার জোর তাগিদ দেন। ব্যাপক আলোচিত আসন্ন উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নেতাদের সম্মেলনের আলোচ্যসূচিতে উত্তর কোরিয়াকে ওপিসিডব্লিউর সদস্যপদ গ্রহণের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার জন্য ওপিসিডব্লিউকে উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়। দক্ষিণ কোরিয়াসহ আরও অনেক সদস্য রাষ্ট্র বাংলাদেশের এই প্রস্তাবনার সাথে সহমত পোষণ করেন। বক্তারা রাসায়নিক পদার্থের শান্তিপূর্ণ ব্যবহার উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বৃদ্ধি করার জন্য পৃথিবীর সকল ব্যক্তির কাছে শান্তির বার্তা পৌঁছে দেবার জন্য জোরালো আবেদন জানান।
উল্লেখ্য, আগামী নভেম্বর মাসে দি হেগে ‘চতুর্থ রিভিউ কনফারেন্স’ মূল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কনফারেন্সে ১৯২ সদস্যের প্রতিটি রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা রয়েছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
