‘বাংলাদেশকে উন্নত দেশে রূপান্তরের কর্ম-পরিকল্পনার কাজ শুরু করেছি’

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৪:২৯
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, তাঁর সরকার ২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সাল পর্যন্ত সময়ে বাংলাদেশকে একটি উন্নত দেশে রূপান্তরের প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও কর্মপন্থা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছে।
 
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অস্ট্রেলিয়া শাখা আয়োজিত সিডনিতে গতকাল শনিবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি আরো বলেন, ‘২০২১ সাল থেকে ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে আমরা কিভাবে দেখতে চাই সেভাবে বাংলাদেশকে উন্নয়নের জন্য আমরা পরিকল্পনা প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি।
 
শেখ হাসিনা বলেন, তাঁর সরকারের গৃহীত বিভিন্ন স্বল্প মেয়াদি, মধ্যমেয়াদী এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়নের জন্যই এখন বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং উন্নয়নশীল দেশ হবার যোগ্যতা অর্জনে সমর্থ হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ইতোমধ্যেই আগামী ছয় বছর পর্যন্ত উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে এর অবস্থানকে ধরে রাখার লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়েছে। এখন আমরা পরিকল্পনা করছি কিভাবে দেশকে ২০৪১ সাল নাগাদ উন্নত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
 
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অস্ট্রেলিয়া সফর উপলক্ষে তাকে সংবর্ধনা জানাতে এ অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয়। দেশের মর্যাদার বিষয়ে সবসময় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী প্রবাসী বাংলাদেশিদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘আপনারা যে যেখানেই বাস করুন না কেন, আপনাদের দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করে দেশের সম্মানকে তুলে ধরতে হবে, যে সম্মান আমরা লাখো শহীদের রক্তের বিনিময়ে অর্জন করেছি। তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্য মুক্ত বাংলাদেশ বিনির্মাণের মধ্যদিয়েই আমরা এই শহীদদের প্রতি যথাযথভাবে সন্মান জানাতে পারি।’
 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, জিয়াউর রহমান হলেন মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিঘ্নিত করার জন্য দায়ী প্রথম ব্যক্তি, তিনি ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার জন্য একটি এলিট ও দুর্নীতিবাজ গোষ্ঠী সৃষ্টি করেছিলেন। ফলে বাংলাদেশ একটি ভিক্ষুকের দেশে পরিণত হয়েছিল।
 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর কন্যা ও প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মেহের আফরোজ চুমকি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। বিকেলে সিডনীর সোফিটেল হোটেলে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়। অস্ট্রেলিয়ার আরএমআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. শামসু রহমান, আওয়ামী লীগ নেতা ড. মিল্টন হাসনাত, গামা আব্দুল কাদির, আনিসুর রহমান রিতু, প্রদ্যুত সিং চুন্নু এবং নিরাজুল ইসলাম অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সংবর্ধনা আয়োজন কমিটির আহ্বায়ক শেখ শামিমুল হক। অস্ট্রেলিয় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন পেশাজীবী এবং সাংস্কৃতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রধানমন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়।
 
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ