মনোযোগ গার্মেন্টসে উপেক্ষিত অন্য খাত

আপডেট : ০১ মে ২০১৮, ১৫:২২

আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় এবং বড় কিছু দুর্ঘটনার কারণে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক নজরদারি রয়েছে গার্মেন্টস খাতের শ্রমিকদের ঘিরে। ফলে এ খাতের শ্রমিকদের কর্মপরিবেশ উন্নয়ন ও শ্রম অধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। বিশ্ববাণিজ্যে সম্পৃক্ত থাকায় চামড়া ও চিংড়িসহ আরো কয়েকটি খাতেও মনযোগ রয়েছে। অথচ একই সময়ে এর বাইরে বিশালসংখ্যক শ্রমিকের কর্মপরিবেশ ও শ্রম অধিকারের ইস্যুটি তেমন আলোচনায় আসে না। ফলে এসব খাতে দুর্ঘটনা ও শ্রমিকদের হতাহতের বিষয়টিও আলোচনার কেন্দ্রে আসছে না। এর মধ্যে বেশকিছু খাতের শ্রমিকরা সরকার স্বীকৃত মজুরির আওতায় না থাকায় (অপ্রাতিষ্ঠানিক) আইনগতভাবে ক্ষতিপূরণও দাবি করতে পারে না। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গার্মেন্টসের বাইরে অন্যান্য খাত বিশেষত  অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার কার্যত উপেক্ষিত।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডিজের (বিলস) নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতানউদ্দিন আহমেদ ইত্তেফাককে বলেন, বিশ্ববাণিজ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত গার্মেন্টসসহ হাতেগোনা কয়েকটি খাতের শ্রমিক ইস্যুতে কিছুটা মনোযোগ থাকলেও এর বাইরে অন্যান্য খাতের শ্রমিকরা বাস্তবে উপেক্ষিত। তাদের জন্য জাতীয় পর্যায়ে ন্যূনতম মজুরি ঘোষণার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য পেশাভিত্তিক নিবন্ধন করতে হবে। আইনের প্রয়োগ সব খাতের জন্য সমান করা এবং জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা তহবিল গঠন করতে হবে।

বিল্স গত বছরে (২০১৭ সাল) কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনার উপর একটি গবেষণাকর্ম চালিয়েছে। গতকাল সোমবার ওই গবেষণাকর্মটি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়। তাতে দেখা যায়, গত বছর বিভিন্ন দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৭৮৪ জন। আর আহত হয়েছে ৫১৭ জন। নিহতের মধ্যে ৩০৭ জনই পরিবহন খাতের। এর বাইরে নির্মাণ খাতে ১৩১ জন। এছাড়া দিনমজুর ৫৫, কৃষি ৩৪, বৈদ্যুতিক শ্রমিক ২৪, জাহাজ ভাঙ্গা ২১, পাথর উত্তোলন ২১, চাল কল ২০, মত্স্য শ্রমিক ১৭ ও গার্মেন্টস খাতে ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কৃষি শ্রমিকদের উল্লেখযোগ্য অংশ মারা যাচ্ছে বজ্রপাতে। গত কয়েক দিনেও দেশব্যাপী বজ্রপাতে বেশ কয়েকজন কৃষি শ্রমিক মারা গেছেন।

শ্রম প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ইত্তেফাককে বলেন, যেসব কৃষি শ্রমিক বজ্রপাতে মারা যাচ্ছেন, তাদের শ্রমিক কল্যাণ তহবিলের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর ফলে তারা সর্বোচ্চ দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক সহযোগিতা পাবেন।

এমন বাস্তবতায় আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হচ্ছে মহান মে দিবস। শ্রমজীবী মানুষের অধিকার আদায়ের রক্তঝরা সংগ্রামের গৌরবময় দিন।  ১৮৮৬ সালের এই দিনে শ্রমিকরা আট ঘণ্টা কাজের অধিকারের দাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের সব শিল্পাঞ্চলে ধর্মঘটের ডাক দিয়েছিলেন। শিকাগোর হে মার্কেটের সামনে বিশাল শ্রমিক জমায়েত ও বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারান ১১ জন। এরপরই ওই শ্রমিক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে সারাবিশ্বে। গড়ে ওঠে শ্রমিক-জনতার বৃহত্তর ঐক্য। অবশেষে তীব্র আন্দোলনের মুখে শ্রমিকদের দৈনিক আট ঘণ্টা কাজের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হয় যুক্তরাষ্ট্র সরকার।

অধিকার আদায়ে শ্রমিকদের আত্মত্যাগের স্মরণে ১৮৮৯ সালে প্যারিসে অনুষ্ঠিত ২য় আন্তর্জাতিক শ্রমিক সম্মেলনে দিনটিকে ‘মে দিবস’ হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় বিশ্বের সব দেশেই আজ পালিত হচ্ছে দিবসটি। গতকাল শ্রম মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু। দিবসটি উপলক্ষে শ্রম মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন কর্মসূচিও ঘোষণা করা হয়েছে। আজ সরকারি ছুটির দিন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ছাড়াও শ্রমিক অধিকার সংগঠনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে আজ। দিবসটি উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

ইত্তেফাক/নূহু