ঝড়-বৃষ্টিতে নিস্তব্ধ মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়াম। গতকাল এমন সুমসান পরিবেশেই বিসিবি কার্যালয়ে এসে হাজির রিচার্ড হ্যালসল। গত মাসে বাংলাদেশ জাতীয় দলের সহকারী কোচের পদ থেকে পদত্যাগ করেছিলেন জিম্বাবুয়ের বংশোদ্ভূত এই ইংলিশ কোচ। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিতে আসা হ্যালসল বিসিবিতে অবস্থান করেছেন অনেকক্ষণ। সাক্ষাৎ করেছেন বিসিবির প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে।
হ্যালসল একাকী মিনিট দশেক সময় কাটিয়েছেন বাংলাদেশ দলের ড্রেসিংরুমেও। গত চার বছর এই ড্রেসিংরুম, মাঠই ছিল তার কাজের ক্ষেত্র। ছুটে বেড়ানো জায়গাগুলোতে এসে কিছুটা অতীত স্মৃতি রোমন্থনের চেষ্টাই হয়তো করেছেন হ্যালসল।
গতকাল রাতেই আবার ইংল্যান্ডে ফিরে গেছেন টাইগারদের সাবেক এ সহকারী কোচ। কারণ একদিন পরই সাসেক্স ক্রিকেট একাডেমির পরিচালক হিসেবে কাজ শুরু করবেন হ্যালসল।
যাওয়ার আগে তিনি বলেছেন, পারিবারিক কারণেই পদত্যাগ করেছিলেন। পরিবারকে আরো সময় দিতে চাইছেন তিনি। এছাড়া বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে নিজের দূরত্বের গুঞ্জনকে উড়িয়ে দিয়েছেন হ্যালসল। তিনি বলেছেন, সিনিয়র ক্রিকেটারদের কোনো সমস্যা ছিল না।
গতকাল নিজের পদত্যাগ সম্পর্কে হ্যালসল বলেছেন, ‘কারণ পুরোপুরিই পারিবারিক। আমার কাঁচা পরিবার। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অনেকটাই সময় কেড়ে নেয়। পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়। এটিই কারণ।’
বিসিবিকে ধন্যবাদ জানাতেই এসেছিলেন তিনি। বলেছেন, ‘এসেছি ধন্যবাদ জানাতে। প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে কথা হয়েছে, বোর্ডের অন্যদেরও ধন্যবাদ জানালাম এখানকার সময়টুকুর জন্য। আমি যে কাজটি করতে ভালোবাসি, সেই কাজ করতে তারা আমাকে সাহায্য করেছে।’
গুঞ্জন ছিল শেষ দিকে বাংলাদেশের সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল হ্যালসলের। কয়েকজন সিনিয়রকে ছেঁটে ফেলতে বিসিবিকে পরিকল্পনা, পরামর্শ দিয়েছিলেন তিনি। যদিও গতকাল সিনিয়র ক্রিকেটারদের সঙ্গে সমস্যা ছিল না বলেই জানিয়েছেন হ্যালসল।
তিনি বলেছেন, ‘সিনিয়র ক্রিকেটারদের অবশ্যই নিজস্ব মতামত আছে। আমি সবসময় চেষ্টা করেছি বাংলাদেশ দলকে সেরাটা দিতে। সিনিয়র ক্রিকেটারদের কারও সঙ্গে আমি কোনো সমস্যা দেখিনি। এসব নিয়ে কিছু জানা নেই আমার।’
বাংলাদেশের ক্রিকেটে হ্যালসলের অধ্যায় শেষ হয়ে গিয়েছিল গত মার্চে নিদাহাস ট্রফির আগেই। জানুয়ারিতে ত্রিদেশীয় সিরিজ, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে হোম সিরিজের পর ইংল্যান্ড ফিরে যাওয়া হ্যালসল আর ফিরেননি বাংলাদেশে। তাকে ছাড়াই নিদাহাস ট্রফি খেলেছিল বাংলাদেশ। গত ২০ মার্চ বিসিবিও আনুষ্ঠানিকভাবে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তার পদত্যাগ করার বিষয়টি জানিয়েছিল।
চন্ডিকা হাথুরুসিংহের বিদায়ের পর বাংলাদেশের কোচ হওয়ার আশায় ছিলেন হ্যালসল। কিন্তু তাকে চমকে দিয়ে নিদাহাস ট্রফিতে ওয়ালশকে ভারপ্রাপ্ত করে দেয় বিসিবি। আশাহত হ্যালসল দেশে ফিরে যান। তারপর পদত্যাগ পত্র পাঠালে বিসিবি তা গ্রহণ করে নেয়।
বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সিনিয়রদের পাশাপাশি তরুণ ক্রিকেটার তুলে আনতে হবে। গতকাল তিনি বলেছেন, ‘আপনারা নিশ্চয়ই অনেক আন্তর্জাতিক দলকেই দেখেছেন। ক্রিকেটাররা যতক্ষণ পর্যন্ত নিজেদের নিরাপদ ভাবছে, নিরাপদ বলতে শারীরিক দিকটা বোঝাচ্ছি না, তাদেরকে পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া ও দেখভাল করা, সমর্থন করা, তাহলে তাদের কাছ থেকে সর্বোচ্চটা পাওয়া যাবে। যে ক্রিকেটাররা দলে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করতে লড়ছে, তারা খুব গুরুত্বপূর্ণ। এই দলে ভালো এক ঝাঁক সিনিয়র ক্রিকেটার আছে। কিন্তু শুধু তাদের দিয়েই আন্তর্জাতিকপর্যায়ে ধারাবাহিকভাবে ম্যাচ জেতা যাবে না। আরো ক্রিকেটার তুলে আনতে হবে। সেটিই পরামর্শ থাকবে। সিনিয়রদের পাশাপাশি উঠতিদের সামর্থ্যটা বের করে আনতে হবে।’
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
