পাবনায় বাদাম চাষে ঝুঁকছেন কৃষক

আপডেট : ০২ মে ২০১৮, ১৫:৫৭
পাবনার ৫টি উপজেলায় চিনাবাদাম চাষ ভাল হচ্ছে। গত কয়েক বছর ধরে বাম্পার ফলন ও ভাল দাম পাওয়ায়  এসব এলাকার কৃষক বাদাম চাষে ঝুঁকছেন। 
 
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র জানায়, পাবনার পাঁচ উপজেলায় চিনাবাদাম চাষ হয়ে থাকে। বিশেষ করে চরাঞ্চলে বাদামের আবাদ বেশি হচ্ছে। চরাঞ্চলের মাটি বাদাম চাষের জন্য খুবই উপযোগী। 
 
কৃষি অফিস জানায়, জেলার বেড়া, সুজানগর, ঈশ্বরদী, সদর ও সাঁথিয়া উপজেলায় মোট ২ হাজার ২৬৬ টন বাদাম উৎপাদনের লক্ষে মোট ১ হাজার ৪৫৪ হেক্টর জমিতে বাদাম চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। 
 
বাদাম চাষীরা জানান, এখন বাদাম লাগানো প্রায় শেষের দিকে। প্রতি বছর বর্ষার পানিতে চরাঞ্চলে বাদাম ক্ষেত তলিয়ে যায়। সেজন্য একটু আগে ভাগেই লাগানোর কাজ শেষ করা হচ্ছে। যাতে পানি আসার আগেই পরিপক্ক বাদাম ক্ষেত থেকে তোলা যায়। সাধারণত: আষাঢ় মাসের মধ্যেই বাদাম তোলা শেষ হয়ে থাকে। কৃষকরা ন্যূনতম উৎপাদন খরচ এবং সহজ চাষ পদ্ধতির জন্য চিনাবাদাম চাষের ক্ষেত্রে আরো আগ্রহী হয়ে উঠছেন। 
 
বেড়া উপজেলার চর এলাকার বেশ কয়েকজন কৃষক জানান, তারা গত কয়েক বছর ধরে বাদাম চাষ করছেন। এতে তারা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হয়েছেন। এ বছর তারা আরো বেশি জমিতে বাদাম চাষ করেছেন। 
 
ঈশ্বরদী উপজেলার আদর্শ কৃষক গোলাম মোস্তফা বলেন, বাদাম আবাদে চরাঞ্চলসহ বেশ কিছু এলাকায় চিনাবাদামে কৃষক ভালো সাফল্য পাচ্ছেন এবং বহু মানুষ স্বাবলম্বী হয়েছেন। বাদাম লাগানোর ৯০ দিনের মধ্যে তা তোলা শুরু হয়। প্রতি বিঘায় ১০ থেকে ১৫ মন বাদাম হয়ে থাকে।  লাভের অংক ভালো হওয়ায় দিন দিন বাদাম আবাদের পরিধিও বাড়ছে। 
 
সুজানগরের কয়েক কৃষক বললেন, গত বছর তারা বাদাম চাষ করে বাম্পার ফলন পেয়েছেন, সেই সাথে মূল্যও ভালো পেয়ে তারা অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত  হয়েছেন। বর্তমানে প্রতি মন বাদাম পাইকারী ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার এবং খুচরা ৬ হাজার থেকে ৭ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। 
 
পাবনা কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক বিভূতি ভূষণ সরকার বলেন, কৃষি বিভাগের কর্মীরা চাষীদের সঙ্গে মতবিনিময় করে চাষাবাদের আধুনিক পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছেন। এতে করে কৃষক আরো উদ্বুদ্ধ হয়ে বাদাম চাষে ঝুঁকছেন।
 
ইত্তেফাক/ইউবি