ওয়াশিংটন ডিসি’তে অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া করে থাকার সামর্থ্য নেই মার্কিন কংগ্রেসম্যান ড্যান ডোনোভ্যানের। এজন্য তিনি ক্যাপিটল হিলে নিজ কার্যালয়ের রাখা একটি ছোট খাটেই ঘুমান। তার মতে, ওয়াশিংটন খুবই ব্যয়বহুল। কার্যালয়ে থাকার কারণেই কংগ্রেসে দায়িত্ব পালন সহজ হয়। এছাড়া তাকে নিউইয়র্ক সিটির বাড়ির খরচ বহন করতে হয়।
এই অবস্থা শুধু ডোনোভ্যানের তা নয়। হাউস স্পিকার পল রায়ান থেকে মেজরিটি লিডার কেভিন ম্যাককার্থি রয়েছেন এই আইন প্রণেতাদের তালিকায়। এক হিসাবে দেখা যায়, প্রায় ১০০ জন রিপ্রেজেন্টেটিভস অর্থাৎ প্রতিনিধি পরিষদের প্রতি পাঁচ জনের একজন নিজ কার্যালয়কেই বাসস্থান বানিয়েছেন।
নিউইয়র্ক পোস্টের এক খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের অনেক সদস্য খরচ বাঁচাতে নিজ কার্যালয়কেই বাসস্থল বানিয়ে ফেলেছেন। আইন প্রণেতাদের বক্তব্য, এক দশকের বেশি সময় পার হলেও বেতন ভাতা বাড়ানো হয়নি। এজন্য ওয়াশিংটন ডিসিতে কাজের সময়ে পয়সা বাঁচাতেই নিজ কার্যালয়ে থাকেন তারা। ডোনোভান বলেন, আমরা যদি এখন ওয়াশিংটন ডিসিতে কোনো বাড়ি ভাড়া করতে চাই বা কিনতে চাই তাহলে শুধু ধনীদেরই কংগ্রেস সদস্য হতে হবে। আমাদের পূর্ব পুরুষদের এমন ইচ্ছা ছিল বলে আমি বিশ্বাস করি না।
তবে মার্কিন আইন প্রণেতাদের এমন কাজে খুশি নন অনেক সহকর্মীরা। তাদের কাছে এ বিষয়টি অপরিচ্ছন্ন, অমর্যাদাকর চর্চা এবং এর অবসান হওয়া উচিত। খুব শিগগিরই হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসে একটি বিল পেশ করার চিন্তা-ভাবনা চলছে। যেখানে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের কার্যালয়কে বাসস্থলে পরিণত করাকে নিষিদ্ধের প্রস্তাব থাকবে। তাদের মতে, এই চর্চা কংগ্রেসের নৈতিক নীতিমালার বিরোধী। মার্কিন কংগ্রেসম্যান বেনি থমসনের মতে, এটি খুবই অস্বাস্থ্যকর ও বাজে চর্চা। কারো বেডরুমে গিয়ে আমি কথা বলতে রাজি হবো না। কার্যালয়ে ঘুমানো কোনোভাবেই ঠিক হতে পারে না। আপনি সেখানে বিনামূল্যে ক্যাবল, বিদ্যুৎ, দারোয়ান, নিরাপত্তা পাবেন। কোনো ভাড়া দেবেন না। আবার যে খরচ বাঁচবে তা ট্যাক্সেও উল্লেখ করবেন না। এটা হতে পারে না।
মার্কিন কংগ্রেসম্যানদের বাৎসরিক বেতন ১ লাখ ৭৪ হাজার ডলার। গত এক দশকে এই বেতন বাড়েনি। তাদের কোনো বাসা ভাড়া বাবদ ভাতা নেই। সিনেট সদস্যদের বেতন একটু বেশি। তারা বছরে ১ লাখ ৯৩ হাজার ডলার পান। যদিও কার্যালয়ে থাকা সিনেটরদের সংখ্যা কম।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
