গফরগাঁওয়ে বাড়ির সীমানা বিরোধের জেরে কৃষক খুন, আহত ৩

আপডেট : ০৩ মে ২০১৮, ১৭:১০
ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার পাগলা থানায় বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে বিরোধের জের ধরে জলিল মিয়া (৫২) নামে এক কৃষক খুন হয়েছেন। এই ঘটনায় গুরুতর জখম হয়েছেন আরো তিনজন। পুলিশ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে দু'জনকে আটক করেছে। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার পাগলা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
 
নিহত জলিল মিয়া পাগলা গ্রামের মৃত মুকবুল হোসেনের ছেলে। আহতরা হলেন- নিহতের চাচি ফিরোজা খাতুন (৬৫),  চাচাতো ভাই নয়ন মিয়া (৪২) এবং মেয়ে লাকী (২৭)। আহতদের আশঙ্কাজনক অবস্থায় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
 
এলাকাবাসী, প্রত্যক্ষদর্শী ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বসতবাড়ির সীমানা নিয়ে জলিল মিয়া ও তারা মিয়ার পরিবারের সাথে প্রতিবেশী এমদাদ, খায়রুল, আনোয়ারের পরিবারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। আজ দুপুর ১টার দিকে তারা মিয়া ও তার পরিবারের লোকজনের অনুপস্থিতিতে এমদাদ, খায়রুল, আনোয়ারের নেতৃত্বে সাত-আটজনের একদল সশস্ত্র লোক কাউকে কিছু না বলে জলিল মিয়ার চাচাতো ভাই তারা মিয়ার বসত ঘরের দরজা-জানালা ভাঙতে শুরু করে, ঘরের চালের ও বেড়ার টিন খুলে নিতে শুরু করে। এ সময় সশস্ত্র লোকজন তারা মিয়ার ঘরে লুটপাটও চালায়। জলিল মিয়া ও তার পক্ষের লোকজন বাধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও লাঠি দিয়ে পিটিয়ে জলিল মিয়া, ফিরোজা খাতুন, নয়ন মিয়া ও লাকীকে গুরুতর জখম করে। এলাকাবাসী উদ্ধার করে জলিল মিয়াকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। বাকিদের প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও পরে অবস্থার অবনতি হলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
 
জলিল মিয়ার লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। পাগলা থানার ওসি মো. মুখলেছুর রহমান আকন্দ জানান, এই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আনোয়ার হোসেন আনু ও তার স্ত্রী পারুল বেগমকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতার ও মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
 
ইত্তেফাক/এসএস