ঢাকায় ইসলামী সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের ৪৫তম সম্মেলন আজ শনি ও আগামীকাল রবিবার। কিন্তু তার আগে মিয়ানমার থেকে নির্যাতনের মুখে পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের দেখতে শুক্রবার সকালের দিকে কক্সবাজার পৌঁছেন ওআইসিভুক্ত ৫৮টি মুসলিম দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। আগামী বর্ষা মৌসুমে দুর্যোগকালীন পরিস্থিতিতে এবং প্রত্যাবাসন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ওআইসি জাতিসংঘের পাশে থেকে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের জন্য কাজ করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রীদের সম্মেলনে রোহিঙ্গা ইস্যুটি প্রধান্য পাবে বলে তারা জানান। শুক্রবার উখিয়ার কুতুপালং রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন ওআইসি’র মন্ত্রী সচির পর্যায়ের প্রতিনিধি দল। ওআইসির প্রতিনিধিরা বলেন, রোহিঙ্গা সমস্যা মিয়ানমারের তৈরি। তাই মিয়ানমারকে এ সমস্যার সমাধান করতে হবে।
প্রতিনিধি দলের প্রধান হাশেম ইউছেফ বলেন, মিয়ানমারের রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠির ওপর যে নিপীড়ন, নির্যাতন, ধর্ষণ ও গণহত্যা চালানো হয়েছে তা নিয়ে গোটা বিশ্ব উদ্বেগ প্রকাশ করছে। সংকটের শুরু থেকে ওআইসি বাংলাদেশের ভুমিকার জন্য প্রশংসা করে আসছে। এখন এ সংকটের সমাধানের জন্য সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
মন্ত্রীরা বলেন, রোহিঙ্গারা সম্মানজনক ভাবে ও নিরাপদে যেন স্বদেশে ফিরে গিয়ে তাদের বসতবাড়ীতে স্বাধীনভাবে বসবাস করতে পারে তার জন্য পরিবেশ তৈরির দায়িত্বও মিয়ানমার সরকারের। গতকাল কুতুপালং ক্যাম্পে পৌছে ওআইসির প্রতিনিধি দল চার ভাগে বিভক্ত হয়ে বালুখালী ময়নার ঘোনা, কুতুপালং শরনার্থী শিবির ঘুরে দেখেন এবং কুতুপালং ডি ফাইভ এলাকায় নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের সাথে কথা বলেন।
রোহিঙ্গাদের প্রতিনিধি দলের কি কথা হয়েছে তা সাংবাদিকদের কাছে প্রকাশ না করলেও রোহিঙ্গা মাঝি হামিদ হোসাইন জানান, ওআইসির প্রতিনিধি দল তাদের কে আশ্বস্ত করেছে তাদের সম্মান জনকভাবে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হবে। এছাড়া রোহিঙ্গারা যাতে মিয়ানমারে নাগরিক অধিকার অর্জন করে সুন্দরভাবে জীবন যাপন করতে পারে সে ব্যাপারে সহযোগিতা করবে। প্রতিনিধিদলের সংগে ছিলেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ এইচ মাহমুদ আলী, চট্রগ্রাম বিভািগীয় কমিশনার আবদুল মন্নান, ডিআইজি মনিরুজ্জামান প্রমুখ।
ইত্তেফাক/নূহু
