সাভারে পোশাক কারখানার ভিতরে অসুস্থ হয়ে এক শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছে কারখানার অন্য শ্রমিকরা। বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা এ সময় কারখানার সামনে পার্কিং করে রাখা বেশ কয়েকটি গাড়িতে ভাঙচুর করে।
শনিবার দুপুরে সাভার পৌর এলাকার উলাইল মহল্লায় অবস্থিত প্রাইড গ্রুপের এইচআর টেক্সটাইল কারখানায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত শ্রমিকের নাম মো. রাশেদুল (২৫)। তিনি কুড়িগ্রাম জেলার উলিপুর থানার জায়গীর গ্রামের মঞ্জুর মুন্সির ছেলে। রাশেদুল উলাইল এলাকায় পরিবার নিয়ে ভাড়া থেকে এইচআর টেক্সটাইল কারখানায় সুইং অপারেটর হিসেবে কাজ করতেন।
রাশেদুলের সহকর্মী মাজেদা বেগম জানান, রাশেদুল দুপুরের খাবার খেয়ে এসে কাজ করতে বসে। কিছুক্ষণ পরই তার মাথা ব্যাথা ও বমি হতে থাকে। এ সময় তাকে কারখানার নিজস্ব মেডিকেলে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ওষুধ দেন। কিন্তু ওষুধ খাওয়ার পরও তার শরীর ঠিক না হওয়ায় তিনি হাসপাতালে যাওয়ার জন্য কারখানার পিএম আব্দুল্লাহ আল মামুনের কাছে ছুটি চান। পর্যায়ক্রমে ফ্লোর ইনচার্জ জুলহাস এবং এপিএম রুবেলসহ সবার কাছেই ছুটি চেয়ে ব্যর্থ হন। এর কিছুক্ষণ পর তিনি অচেতন হয়ে পড়েন। পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কারখানার শ্রমিক ওসমান গনি বলেন, রাশেদুল বার বার ছুটি চাওয়ার পরও পিএম তাকে ছুটি দেননি। একপর্যায়ে ছুটি না পেয়ে কারখানায় ভিতরেই তার মৃত্যু হয়। মারা যাওয়ার পর তাকে হাসপাতালে নেয়া হয়।
অপর শ্রমিক আমেনা বেগম জানান, কারখানার ৫ তলায় কাজ করতেন রাশেদুল। দুপুরে অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার পরও বিষয়টি ধামাচাপা দিতে কর্তৃপক্ষ কারখানার মূল ফটক বন্ধ করে ভিতরে গান ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে মৃত্যুর বিষয়টি শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে দুপুর ৩ টা থেকে কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করে তারা।
শিল্প পুলিশের ইন্সপেক্টর মো. হারুন উর রশিদ বলেন, শ্রমিকরা ৪ লাখ টাকা দাবি করেছে কিন্তু মালিকপক্ষ দুই লাখ টাকা দিতে রাজি হয়েছে। বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। এ ছাড়া যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমাদের সর্বাত্মক প্রস্তুতি রয়েছে।
এদিকে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করে রাখার কারণে রাস্তার দুই পাশে হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়েছে। এ সময় অনেকে গাড়ি থেকে নেমে পায়ে হেটে গন্ত্যবের উদ্দেশ্যে রওনা হতে দেখা গেছে।
ইত্তেফাক/ইউবি
