ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে, ওবামা প্রশাসনের এমন শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ‘নোংরা অভিযান’ চালাতে ইসরাইলের ব্যক্তিগত মালিকানাধীন একটি গোয়েন্দা সংস্থা ভাড়া করেছিল ট্রাম্প সহযোগীরা। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিটি অগ্রহণযোগ্য প্রমাণ করার উদ্দেশ্যেই এমন অভিযান চালানোর ব্যবস্থা করেছিল ট্রাম্প শিবিরের সদস্যরা। সম্প্রতি এক গবেষক দলের গোপন নথিপ্রত্র থেকে এ খবর পাওয়া গেছে বলে ‘দ্য গার্ডিয়ান’ জানিয়েছে।
খবরে বলা হয়, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা’র জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা বেন রোডস ও ডেপুটি সহকারী কলিন কাহলের বিরুদ্ধে ক্ষতিকর তথ্য খুঁজে বের করার জন্য গত বছরের মে মাসে ইসরাইলি বেসরকারি গোয়েন্দাদের কাজে লাগিয়েছিল ট্রাম্প শিবিরের সদস্যরা। তাদের উদ্দেশ্য ছিল, যেকোনভাবে চুক্তিটি বাতিল করা।
ইরানের অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের পক্ষপাতী সাবেক ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাক স্ট্র এ বিষয়ে বলেন, এগুলো খুবই হতবাক করা ও ভয়ঙ্কর অভিযোগ। কিন্তু একইসঙ্গে এগুলো এটাও প্রকাশ করে যে, ট্রাম্প ও (ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী) বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু শুধুমাত্র চুক্তিটি বাতিল করা নিয়ে নয়, পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িতদের ছোট করতেও চরম পর্যায়ের বেপরোয়া।
আন্তর্জাতিক শান্তি চুক্তির মধ্যস্থতা করায় প্রচুর অভিজ্ঞতা সম্পন্ন উচ্চ পর্যায়ের একজন ব্রিটিশ কূটনৈতিক নাম না প্রকাশের শর্তে বলেন, এমনটা করা ভীষণ রকমের গর্হিত কাজ। আলোচনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে এরকম নোংরা কৌশল অবলম্বন না করা।
সূত্রের বরাত দিয়ে গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়, এক বছর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে তেল আবিবে ট্রাম্পের প্রথম সফরের কয়েকদিন পরই তার প্রচারণা শিবির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে গোয়েন্দা ভাড়া করার বিষয়ে যোগাযোগ করেন।
ওই অভিযানের বিষয়ে ওয়াকিবহাল এক সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টা এমন ছিল যে, ট্রাম্পের হয়ে কাজ করা লোকগুলো ওই চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালনকারী ব্যক্তিদের দোষ খুঁজে বের করবে। এতে করে চুক্তিটি থেকে বের হওয়া সহজ হয়ে যাবে।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ তারিখ ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত জানাতে হবে ট্রাম্পকে।
ইত্তেফাক/জেআর/এমআই
