বেসিক ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির মামলা তদন্তে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে হাজির হননি ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান শেখ আব্দুল হাই বাচ্চু। গত ২৪ এপ্রিল এক নোটিশের মাধ্যমে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে সোমবার তাকে হাজির হতে বলা হয়েছেলি।
সোমবার তিনি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নিজে হাজির না হয়ে আইনজীবীর মাধ্যমে দু’মাসের সময় চেয়ে দুদকে আবেদন করেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুদক তাকে সাতদিনের সময় দিয়েছে। আগামী ১৫মে তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুদকে হাজির হতে বলেছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, অসুস্থতার কারণে কমিশন শেখ আব্দুল হাই বাচ্চুকে এক সপ্তাহ সময় দিয়েছে। আগামী ১৫ মে তাকে দুদকে ডাকা হয়েছে। বাচ্চুকে এর আগে চার দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। দুদকের পরিচালক সৈয়দ ইকবাল হোসেনের নেতৃত্বে একটি দল তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।
দুদক সূত্র জানায়, বেসিক ব্যাংক ঋণ জালিয়াতির ঘটনায় ২০১৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন ও গুলশান থানায় মোট ৫৬টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এরপর বংশাল ও মতিঝিল থানায় আরো দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই মামলা গুলোতে ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকা অনিয়মের মাধ্যমে ঋণ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। মামলায় আসামিদের মধ্যে বেসিক ব্যাংকের কর্মকর্তা রযেছেন ২৬ জন। এর মধ্যে ব্যাংকের সাবেক এমডি কাজী ফখরুল ইসলামকে আসামি করা হয়েছে ৪৮ মামলায়, ডিএমডি ফজলুস সোবহান ৪৭টি, কনক কুমার পুরকায়স্থ ২৩টি, আইটি শাখার মো. সেলিম আটটি এবং বরখাস্ত হওয়া ডিএমডি এ মোনায়েম খান ৩৫টি মামলার আসামি। ওই মামলাগুলোর বাকি ১৩০ জন আসামি হলেন ঋণগ্রহীতা ৫৪ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী। তবে কোনো মামলায় ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুরসহ পরিচালনা পর্ষদের কাউকে আসামি করা হয়নি। পরে বেসিক ব্যাংকের দুর্নীতি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের কয়েক দফা পর্যবেক্ষণ আসার পর দুদক ব্যাংকটির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল হাই বাচ্চুকে জিজ্ঞাসাবাদের উদ্যোগ নেয়।
এদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের তদন্তে বেসিক ব্যাংকের তিনটি শাখায় প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ে। দুদক ২ হাজার ৬৫ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে। তবে বাকি আড়াইহাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান চলমান। অনুসন্ধান শেষে সেগুলোর ব্যাপারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে দুদক সূত্র জানিয়েছে।
ইত্তেফক/এমআই
