জয়পুরহাট জেলা শহরের সবুজনগর এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ী তরিকুল ইসলাম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত তিনজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত। জেলা ও দায়রা জজ বেগম মমতাজ পারভীন আজ মঙ্গলবার দুপুর পৌনে ১২টায় এই রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হচ্ছেন- ক্ষেতলাল উপজেলার ভাসিলা গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন মোল্লার ছেলে এমরান হোসেন জনি (৩০), সদর উপজেলার সগুনা আমপাড়া গ্রামের ফরিদুল ইসলামের ছেলে রবিউল ইসলাম বিপ্লব (২০) ও পাঁচুর চক এলাকার মো. শাকিল হোসেন (৩০)। সাজা প্রাপ্তদের মধ্যে শাকিল হোসেন মামলা চলাকালীন সময়ে জামিনে গিয়ে আজতক পলাতক রয়েছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, জেলা শহরের সবুজনগর এলাকার আব্দুল কুদ্দুসের ছেলে তরিকুল ইসলাম (৩২) সদর রাস্তার পদ্মা ক্লিনিকের সামনে ওষুধের দোকান করতো। ২০১৫ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর রাতে দোকান থেকে বাসায় যাবার পথে এই হত্যার শিকার হন তরিকুল। বাড়ির ৫শ' গজ দূরে পাঁচুরচক রাস্তার পাশে তরিকুলের ক্ষত-বিক্ষত লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ তরিকুলের লাশ উদ্ধার করে। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে একটি মানিব্যাগ হারানোর তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই খুনের ঘটনা ঘটে। ২০ সেপ্টেম্বর নিহতের বাবা আব্দুল কুদ্দুস বাদী হয়ে জয়পুরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তা এস আই আব্দুস সালাম ২০১৫ সালের ৫ অক্টোবর আদালতে সাজাপ্রাপ্তদের অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করে। আদালত এই মামলায় ২১ জনের সাক্ষী গ্রহণ শেষে তিন জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ প্রদান করেন। সরকার পক্ষে ছিলেন পিপি অ্যাড. নৃপেন্দ্রনাথ মণ্ডল ও সিনিয়র আইনজীবী আব্দুর রহমান এবং আসামি পক্ষে ছিলেন অ্যাড. আবু ইউসুফ মো. খলিলুর রহমান, অ্যাড. নন্দকিশোর আগরওয়ালা, অ্যাড. মোস্তাফিজুর রহমান ও অ্যাড. কাজী রাব্বিউল হাসান মোনেম। মামলার রায়ে সন্তুষ্ট নয় বলে আদালত প্রাঙ্গণে জানালেন মামলার বাদী আব্দুল কুদ্দুস।
ইত্তেফাক/এসএস
