মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর মানবতা-বিরোধী অপরাধ সংঘটন হয়েছে কি না, তা তদন্তের জন্য দি হেগের আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিচারকদের অনুমতি চেয়েছেন আদালতেরই একজন আইনজীবী। ঐ আইনজীবী যুক্তি দিয়েছেন- যদিও মিয়ানমার আইসিসির সদস্য নয়, সেদেশের অপরাধের কারণে সদস্য দেশ বাংলাদেশ তার শিকার হয়েছে, ফলে ঐ অপরাধ তদন্তের এখতিয়ার আইসিসির রয়েছে।
তবে তদন্তের অনুমতি দেয়ার আগে আইসিসির তিনজন বিচারকের চেম্বার থেকে বাংলাদেশ সরকারের বক্তব্য জানতে চাওয়া হয়েছে। ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আইসিসির চিঠি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করেছে। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে তিনটি বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের লিখিত বক্তব্য জানতে চেয়েছে আইসিসি।
IMG0
এক, কোন পরিপ্রেক্ষিতে বিশাল সংখ্যায় রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে এসে ঢুকলো? দুই, মিয়ানমার সদস্য দেশ না হলেও সেখানে সংঘটিত অপরাধের অভিযোগ তদন্তে আইসিসির এখতিয়ার নিয়ে বাংলাদেশের মতামত কী? তিন, অপরাধের অভিযোগ তদন্তের অনুমতি দেয়ার জন্য আদালত বিবেচনা করতে পারে এমন যে কোনো বিষয়ে বাংলাদেশের বক্তব্য।
IMG1
এর আগে, রোহিঙ্গাদের ওপর ব্যাপক ও পদ্ধতিগতভাবে জাতিগত নিধনের বিষয়টি শিগগিরই আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে তুলে ধরতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। এছাড়া সম্প্রতি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল বাংলাদেশের কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প পরিদর্শন করে।
IMG2
মঙ্গলবার হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের অগাস্ট মাসের পর থেকে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পালিয়ে বাংলাদেশে আসা সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা এবং এর আগে আসা আরও দুই লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর অবস্থা সরাসরি দেখে গেছেন জাতিসংঘ প্রতিনিধি দলে সদস্যরা। তারা নিউইয়র্কে ফিরে গিয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার কথা বলে গেছেন। যুক্তরাজ্যের অ্যাম্বাসেডর কারেন পিয়ের্স বলেছেন, পরিষদের সকল সকল সদস্যই মনে করেন, ‘রোহিঙ্গা ইস্যুটি গত দশকের মধ্যে দেখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবাধিকার বিষয়ক ইস্যুগুলোর একটি এবং অবশ্যই সেখানে কোনও ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।’ বিবিসি।
ইত্তেফাক/সেতু
