জিনা হাসপেল সম্পর্কে তথ্য দিতে চান ৯/১১ হামলাকারী

আপডেট : ১০ মে ২০১৮, ১০:৫৯
সিআইএ প্রধান হিসেবে ট্রাম্পের মনোনীত প্রার্থী জিনা হাসপেল সম্পর্কে সিনেট প্যানেলে তথ্য দিতে চান যুক্তরাষ্ট্রে ৯/১১ হামলার স্বঘোষিত ‘মাস্টারমাইন্ড’ বা মূল পরিকল্পনাকারী খালিদ শেখ মোহাম্মদ। সম্প্রতি এক বিচারকের কাছে এ বিষয়ে অনুমতি চেয়েছেন গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দী এই হামলাকারী। নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ খবর দিয়েছে বিবিসি।
 
খবরে বলা হয়, ২০০৩ সালে গ্রেফতার করা হয় মোহাম্মদকে। গ্রেফতারের পর সিআইএর নির্যাতনের শিকার হন তিনি। এদিকে, সিনেটরদের কাছ থেকে কঠিন শুনানির সম্মুখীন হয়েছেন হাসপেল। ২০০২ সালে থাইল্যান্ডে সিআইএর গোপন কারাগারে বন্দীদের ওপর অমানুষিক নির্যাতন চালানো কর্মসূচির সঙ্গে তার জড়িত থাকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকে।
 
ওই কারাগারে বন্দীদের ওপর ওয়াটারবোর্ডিংয়ের (বারবার পানিতে ডুবানো) মতো নির্যাতন চালানো হত। হাসপেল ওই কর্মসূচির তত্ত্বাবধানে ছিলেন বলে ধারণা করছেন অনেকে। আর সেজন্য নতুন সিআইএ প্রধান হিসেবে তিনি কতটা উপযুক্ত সে বিষয়ে অনেকের সংশয় রয়েছে ।
 
হাসপেল অবশ্য সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটিকে জানিয়েছেন, তার নেতৃত্বে সিআইএ পুনরায় কোন গোপন কারাগার ও জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচি চালু করবে না, যার মাধ্যমে বন্দীদের নির্যাতন করা হবে।
IMG0
তিনি কমিটির সদস্যদের বলেছেন, এটা পরিষ্কার যে সিআইএ কোন বন্দীশালা ও জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচির জন্য প্রস্তুত নয়। দাঙ্গাপূর্ণ সময়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে আমি আপনাদের স্পষ্ট ও খোলাখুলিভাবে আমার ব্যক্তিগত প্রতিশ্রুতি দিতে পারি যে, আমার নেতৃত্বে সিআইএ পুনরায় বন্দী ও জিজ্ঞাসাবাদ কর্মসূচি চালু করবে না। তবে তিনি ওই কর্মসূচির তত্ত্বাবধানে ছিলেন কিনা সে বিষয় নিশ্চিত করেন নি।
 
মোহাম্মদ সিনেট ইন্টেলিজেন্স কমিটির কাছে জিনা হাসপেল সম্পর্কে তথ্য শেয়ার করার জন্য অনুমতি চেয়েছেন। তার আইনজীবী লেফটেন্যান্ট কর্নেল ডেরেক পটেট জানান, মোহাম্মদের তথ্য শেয়ার করার আবেদন বিচারক কর্নেল জেমস পোহলের কাছে দাখিল করা হয়েছে। তবে মোহাম্মদকে অনুমতি দেয়া হয়েছে কিনা সে বিষয়ে কিছু জানা যায়নি।
 
পাকিস্তানী বংশোদ্ভূত মোহাম্মদের জন্ম হয় কুয়েতে। ২০০৩ সালে তাকে পাকিস্তান থেকে গ্রেফতার করা হয় ও ২০০৬ সালে কিউবায় গুয়ানতানামো বেতে নিয়ে যাওয়া হয়। সিআইএ নথিপত্র অনুযায়ী তিনি ১৮৩ বার ‘ওয়াটারবোর্ডিং’ এর শিকার হয়েছেন।
 
ইত্তেফাক/ জেআর