ভারতের কর্ণাটক নির্বাচন: ১০০ রুপিতে বিক্রি হচ্ছে ভোটার পরিচয়পত্র

আপডেট : ১০ মে ২০১৮, ১৪:৩৫
ভারতে নির্বাচনে জয়ী হওয়ার জন্য অভিনব এক কৌশল অবলম্বন করছেন প্রার্থীরা। সাধারণত কোন বিশেষ প্রার্থীকে ভোট দেয়ার জন্য ভোটারদের ঘুষ দেয়াটাই প্রচলিত কৌশল। নতুন কৌশল হচ্ছে ভোটারদের ভোট না দিতে উৎসাহিত করা। সরাসরি তাদের ঘুষ দিয়ে ভোটার পরিচয়পত্রই কিনে নেয়া হচ্ছে। কর্ণাটক অঙ্গরাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে এর অকাট্য প্রমাণ মিলেছে। সম্প্রতি অঙ্গরাজ্যটির আরআর নগরের এক এপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ১০ হাজার ভোটার পরিচয়পত্র। ১০০ থেকে ২ হাজার রুপিতে বিক্রি হচ্ছে এসব পরিচয়পত্র। এ খবর দিয়েছে দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া।
 
খবরে বলা হয়, ভারতে নির্বাচনে জেতার জন্য প্রার্থীরা নিবন্ধিত ভোটারদের ঘুষ দিয়ে তাদের ভোটার পরিচয়পত্র (ইপিআইসি) কিনে নিচ্ছেন। স্থান ভেদে পরিচয়পত্রের দামেও দেখা যায় হেরফের। উদাহরণস্বরূপ, কর্ণাটকের উত্তরাংশে অবস্থিত লাম্বানি তান্দায় ভোটার পরিচয়পত্র বিক্রি হয়েছে মাত্র ১০০ রুপিতে। কিন্তু বেঙ্গালুরুর বস্তিবাসীরা পরিচয়পত্র বিক্রি করেছেন ২০০ রুপিতে।
 
হেব্বালের এক ছুতারমিস্ত্রি আরবাজ খান (ছদ্মনাম) বলেন, আমাকে বিজেপি প্রার্থীর এক সমর্থক জিজ্ঞেস করেছিল যে, আমি ভোট না দিয়ে ১০০০ রুপি পেতে রাজি আছি কিনা। আমি হ্যা বলে দেই। আমার কলোনির অনেকে নগদ অর্থের সঙ্গে কিছু হুইস্কিও পেয়েছে।
 
২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে তৎকালীন কংগ্রেস প্রার্থী কুমার বাংরাপ্পা অভিযোগ করেন যে, শিমোগা শহরে বিজেপি নেতারা মুসলিম ও লাম্বানিবাসীদের কাছ থেকে ৫০০ রুপির বিনিময়ে ভোটার পরিচয়পত্র কিনছে। উল্লেখ্য, পরবর্তীতে তিনি কংগ্রেস থেকে বের হয়ে বিজেপিতে যোগ দেন।
 
ভোটার পরিচয়পত্র বেচা-কেনার অভিযোগ উঠলেও রাজ্যের নির্বাচনী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এতো সহজে ভোট চুরি করা যায় না। এক বিবৃতিতে তারা বলেন, নির্বাচন কমিশন দুর্বলতা মাপা নামের একটি পদ্ধতি চালু করেছে। আমাদের খুঁজে বের করতে হবে কোন গোষ্ঠীর মানুষকে ভোট দিতে যাওয়া থেকে বিরত রাখা হচ্ছে কিনা। আমরা যদি এরকম কোন প্রমাণ পাই তাহলে নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করতে পারব।
 
ইত্তেফাক/ জেআর