বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়া গুরুতর অসুস্থ। দিন দিন তার স্বাস্থের অবনতি ঘটছে। আগে ১ সপ্তাহ পর পর পরিবারের সাথে দেখা করার সুযোগ থাকলেও এখন সেটিও দেয়া হচ্ছে না। তাই অবিলম্বে তাঁর পরিবারের সাথে সাক্ষাৎ করতে দেয়া হোক। কারণ দীর্ঘ দিন তাকে দল ও পরিবারের সদস্যদের সাথে দেখা করতে দেয়া হচ্ছে না।
শনিবার রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, আমরা বা পরিবার দেখা করার অনুমতি চাইলে বলা হচ্ছে নিরাপত্তা জনিত করণে দেখা করার অনুমতি দেয়া যাচ্ছে না। কিন্তু তিনি তো কারাগারে সরকারের নিরাপত্তা বলয়ে আছেন, তাহলে কিসের নিরাপত্তা হুমকি আমাদের বুঝে আসে না। আমরা সরকারকে আহ্বান জানাই তাঁকে অন্তত তাঁর পরিবারের সাথে দেখা করার সুযোগ দিন।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়াকে কারাগারে নেয়ার পর থেকে তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হয়েছে। এ নিয়ে সরকারের কোনো মাথা ব্যথা নেই। ডাক্তাররাও বলছেন এভাবে থাকলে তিনি প্যারালাইজড হয়ে যেতে পারেন তার স্মৃতিশক্তি নষ্ট হয়ে যেতে পারে। কিন্তু সরকার এসব বিষয়ে কোনো কর্ণপাত করছে না।
মির্জা ফখরুল বলেন, গত ৪ মে তাঁর পরিবার সর্বশেষ দেখা করতে পেরেছেন। এরপর বার বার চেষ্টা করার পরও সরকার দেখা করার সুযোগ দিচ্ছে না। তাই তাঁর স্বাস্থের বিষয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। সরকারের কাছে আহ্বান জানাবো বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের পরামর্শ মতে তাঁকে যেন উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। আমরা বেগম জিয়ার খবর নেয়ার চেষ্টা করেছি কিন্তু ব্যর্থ হয়েছি। আমরা তাঁর বিষয়ে খুবই উদ্বিগ্ন, তিনি কেমন আছেন কি অবস্থায় আছেন সে বিষয়ে আমরা কিছুই জানতে পারছি না। তাই সরকারের কাছে অনুরোধ পরিবারকে যেন দেখা করতে দেয়া হয়।
তিনি বলেন, তিন মাস ধরে খালেদা জিয়া কারাগারে আছেন। প্রথম যখন দেখা করতে গিয়েছি উৎফুল্ল হয়ে কথা বলেছেন। তিনি ভিজিটর রুমে এসে কথা বলেছেন। এরপর কয়েকবার গিয়েছি প্রতিবারই ভিজিটর রুমে এসে কথা বলেছেন। কিন্তু গত এক মাস ধরে তিনি ভিজিটর রুমে আসতে পারছেন না। যে কারণে আমাদের সঙ্গে সাক্ষাতের সময় দিয়েও তা বাতিল করা হয়েছে। তার শরীরের অবস্থা এত খারাপের দিকে গেছে যে, তিনি আসতে পারছেন না।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, আ্যাডভোকেট মাসুদ আহমেদ তালুকদার, আ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, আ্যাডভোকেট জাকির হোসেন উপস্থিত ছিলেন।
ইত্তেফাক/কেআই
