চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ইউনিয়নগুলোতে যুবলীগের পাল্টাপাল্টি আহবায়ক কমিটি গঠন অব্যাহত রেখেছেন বিভক্ত যুবলীগের নেতৃবৃন্দ। দৃশ্যত হুইপ গ্রুপ এবং জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন গ্রুপের সমর্থক যুবলীগের নেতৃবৃন্দ পাল্টাপাল্টি ওই কমিটি করছে বলে জানা গেছে। এরমধ্যে চারটি ইউনিয়নে পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করা হয়েছে।
জেলা যুবলীগের যুগ্মআহবায়ক জিল্লুর রহমান পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন সম্পর্কে ইত্তেফাককে বলেন, তারা এককভাবে ইউনিয়নে ইউনিয়নে কমিটি করছে। সেজন্য আলমডাঙ্গার আহবায়ক কমিটিও তাদের মতো কমিটি করছে। তবে তিনি স্বীকার করেন এসব কমিটি থাকবে না।
আহবায়ক নঈম হাসানের সমর্থক ও জেলা আহবায়ক কমিটির কার্যনির্বাহী সদস্য আলমডাঙ্গা পৌর কাউন্সিলর মতিয়ার রহমান ফারুক এ বিষয়ে ইত্তেফাককে জানান, জেলা আহবায়ক কমিটিতে দুজন যুগ্ম আহবায়ক রয়েছেন। আহবায়ক নঈম হাসান আড়াই মাস ধরে সবাইকে নিয়ে কমিটি গঠনের চেষ্টা করেছেন। কিন্ত একজন যুগ্ম আহবায়ক তার মত চলায় আমরা আমাদের মতো কমিটি করছি।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদের হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দারের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে এর আগে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ওবাইদুর রহমান চৌধুরী জিপু নিজেকে জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও জিল্লুর রহমানকে যুগ্মআহবায়ক করে এককেন্দ্রীক জেলা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসেন কেন্দ্র থেকে। এরপর থেকে সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দার ছেলুনের ভাতিজা যুবলীগ নেতা আহবায়ক প্রত্যাশী নঈম হাসানের সমর্থকেরা নবগঠিত আহবায়ক কমিটির বিরোধিতা করতে থাকে। দু-পক্ষের দ্বন্দ্বের বলী হন দুজন কর্মী। ক'মাসের ব্যবধানে কেন্দ্র থেকে আহবায়ক কমিটি স্থগিত করা হয়।
এ সময় পৌরসভা নির্বাচন এগিয়ে আসে। হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দারের ছোট ভাই পৌর মেয়র রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার টোটনকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে হারিয়ে মেয়র নির্বাচিত হন জিপু চৌধুরী। জিপুর নেতৃত্বে জেলা পরিষদ নির্বাচনে আলহাজ্জ সেখ সামসুল আবেদীন খোকন চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। খোকন এখন আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিজেকে এমপি প্রার্থী হিসেবে গণসংযোগ করে বেড়াচ্ছেন।
এসব রাজনৈতিক উত্তাপ ছাপিয়ে হুইপ সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দারের ভাতিজা নঈম হাসান নিজেকে জেলা যুবলীগের আহবায়ক ও জিল্লুর রহমানকে যুগ্ম আহবায়ক করে কেন্দ্র থেকে জেলা আহবায়ক কমিটির অনুমোদন নিয়ে আসেন।
এরপর থেকে নঈম হাসান আলমডাঙ্গার ইউনিয়নগুলোতে যুবলীগের আহবায়ক কমিটি গঠনে হাত দেন। তার নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ভাংবাড়িয়া, কালিদাসপুর, ডাউকি ও জামজামী ইউনিয়নে তার অনুসারীদের নিয়ে আহবায়ক কমিটি গঠন করেছেন।
এর পাল্টা হিসেবে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান খোকন গ্রুপের সমর্থক পরিচিত আলমডাঙ্গা উপজেলা যুবলীগের যুগ্মআহবায়ক সাজ্জাদুল ইসলাম স্বপন ও যুগ্মআহবায়ক শাহীন রেজার নেতৃত্বে তিনটি ইউনিয়নে পাল্টা কমিটি গঠন করেছেন। এরা ডাউকি, কালিদাসপুর ও জামজামী ইউনিয়নে পাল্টা কমিটি গঠন করেন।
পাল্টাপাল্টি কমিটি গঠন করার মধ্য দিয়ে দৃশ্যত যুবলীগের বিভক্তি ফুটে উঠেছে।
ইত্তেফাক/নূহু
