ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি বাঁচাতে চাইলে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে (ইইউ) ইরানে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ জাবাদ জারিফ। রবিবার ইরানের রাজধানী তেহরানে ইইউ’র জ্বালানী ও জলবায়ু বিষয়ক কমিশনার মিগেল আরিয়াস ক্যানিটির সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এমন মন্তব্য করেন। এ খবর দিয়েছে আল জাজিরা।
খবরে বলা হয়, ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয় যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, রাশিয়া, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইইউ। চুক্তি অনুসারে, ইরানের ওপর থেকে আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয় তারা। বিশ্ব বাজারে প্রবেশের সুযোগ পায় ইরান। বদলে পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষম হওয়ার চেষ্টা স্থগিত করে ইরান। কিন্তু এই মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে ওই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ট্রাম্প চুক্তি থেকে সরে আসলেও ইউরোপীয় দেশগুলো চুক্তিটি রক্ষা করার চেষ্টায় আছে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে বের করে নেয়ায় ইরানের ওপর থেকে প্রত্যাহার করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাগুলো পুনরায় আরোপ করা হয়েছে। পাশাপাশি পুরনো নিষেধাজ্ঞাগুলোর সঙ্গে নতুন করে আরোপ করা হয়েছে আরো কিছু নিষেধাজ্ঞা। নিষেধাজ্ঞাগুলো অনুসারে, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য করা কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করতে পারবে না। যদি করে তাহলে তাদের ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের সকল লেন-দেন বন্ধ করে দেয়া হবে।
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার চাপে সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক চালিয়ে যাওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বেশ কয়েকটি শীর্ষ ইউরোপীয় কোম্পানি। এর মধ্যে, ড্যানিশ কোম্পানি মায়ের্স্ক ট্যাংকারস, জার্মান বিমা কোম্পানি এলিয়ানজ ও ইতালীয় ইস্পাত উৎপাদনকারী কোম্পানি ড্যানিয়েলি ইরানে ব্যবসা স্থগিত করার পরিকল্পনার কথা ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া ইরানে একটি কোটি ডলারের প্রকল্প থেকে বেরিয়ে আসার হুশিয়ারি দিয়েছে ফরাসি জ্বালানি জায়ান্ট ‘টোটাল’।
এমতাবস্থায় ইরান জানিয়েছে, পারমাণবিক চুক্তি অক্ষুণ্ন রাখতে চাইকে ইইউকে ইরানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে। সম্প্রতি ইইউ কমিশনার ক্যানেটের সঙ্গে এক বৈঠকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জারিফ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইইউর রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি পারমাণবিক চুক্তি বাঁচাতে সক্ষম নয়। তিনি বলেন, ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে চাইলে ইইউকে আরো শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান নিতে হবে ও ইরানে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে হবে।
উল্লেখ্য, ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি রক্ষা করতে চেষ্টা চালাচ্ছে ইইউ। জারিফের সঙ্গে বৈঠক শেষে আরিয়াস ক্যানিটি, ইইউ’র চুক্তি রক্ষা করার প্রতিশ্রুতির কথাটি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আমাদের বার্তা পরিষ্কার। এই পারমাণবিক চুক্তি ফলপ্রসূ।
জারিফের বক্তব্য টেনে ক্যানিটি বলেন, তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে যা চাচ্ছেন তা হচ্ছে আমাদের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের জন্য আমাদের কাছে অবশ্যই দৃঢ় সমাধান থাকতে হবে। ক্যানিটি জানান, বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় কোম্পানির হঠাৎ করে একযোগে ইরানে বিনিয়োগ বন্ধ করার ঘোষণা পরিস্থিতি অনেক জটিল করে তুলেছে।
ইত্তেফাক/ জেআর
