কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার সদর ইউনিয়নের আবাসন সংলগ্ন বালাটারী গ্রামের নীলকমল নদীর ওপর কাঠের তৈরি সেতুটি র্দীঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সেতুটির রেলিং না থাকায় প্রতিদিন শতশত মানুষ পার হচ্ছে ঝুঁকি নিয়ে। রেলিংবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দেখেও কোন প্রকার তা সংযোজনের উদ্যোগ নেয়নি কর্তৃপক্ষ। যেন দেখার কেউ নেই। ফলে প্রতিদিনই নষ্ট পাটাতন ও রেলিংবিহীন ঝুঁকিপূর্ণ সেতু দিয়ে পারাপারের সময় অহরহ দুঘর্টনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তাই এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি ভরা বর্ষার আগেই দ্রুতগতিতে সংস্কারের দাবী জানিয়েছে স্থানীয়রা।
উপজেলার সদর থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দুরে এই সেতুটি অবস্থিত। এই সেতু দিয়ে উপজেলার মাঝিটারী, বালাটারী, কুমারটারী ও বিলুপ্ত দাসিয়ারছড়ার কামালপুর, হাবিবপুর, ফুলসাগর আবাসনের ১৮০টি পরিবারের লোকজনসহ লাখো মানুষের চলাচলের একমাত্র সহজ পথ এই সেতুটি। খুব অল্প সময়ে এই সেতু দিয়ে উপজেলার স্কুল-কলেজে যাতায়াত করে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও এই ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতু দিয়ে জরুরি চিকিৎসা সেবাসহ উৎপাদিত কৃষিপণ্য সদরের বাজারগুলোতে বাজারজাত করেন কৃষকরা। ওই এলাকার লাখো মানুষ ঝুঁকিপূর্ণ কাঠের সেতুটির রেলিং সংযোজনসহ মেরামতের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় পরেশ চন্দ্র, রশিদ মিয়া, শিক্ষাথী সবুজ মিয়া, আরিফা খাতুন, দীপা রানী জানান, অনেক আগে এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে পারাপারের জন্য বাঁশের সাঁকো তৈরি করে কোন রকম কষ্ট করে পারাপার হত। এলাকাবাসীর কষ্ট দেখে চার বছর আগে উপজেলা পরিষদ এই কাঠের সেতুটি তৈরি করে দেয়। বর্তমানে সেতুটির অবস্থা খুব খারাপ। সেতুটি পুরাতন হওয়ায় পাটাতন খুলে যাচ্ছে। এমনিতে সেতুর দুইপাশে রেলিং না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভয়ে ভয়ে সেতু পার হতে হয়।
এখন প্রতিদিনেই বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিতে কাঠের সেতুর পাটাতন খুব পিচ্ছিল হয়। অনেকে সেতু পারাপারের সময় পিছলে পড়ে আহত হয়। যেন আমাদের দুরদশা দেখার কেউ নেই। তারা এই সেতুটি পূর্ণ সংস্কারের দাবী জানান।
এ প্রসঙ্গে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নজির হোসেন জানান, চার বছর আগে এলাকাবাসীর কষ্ট দূর করার জন্য পরিষদের পক্ষ থেকে ৪ লাখ টাকা ব্যয়ে ২০২ ফিট লম্বা এই কাঠের সেতুটি নির্মান করা হয়েছে। বর্তমানে ওই সেতু দিয়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লোকজন পার হচ্ছে। খুব দ্রুত এই সেতুটির দুই পাশে রেলিং দিয়ে ভালভাবে মেরামত করা হবে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দেবেন্দ্র নাথ উরাঁও জানান, সেতুটির পাশে সর্তকীকরণ সাইন র্বোড টাঙানো হয়েছে। দ্রুত সেতুটির রেলিং ও নষ্ট পাটাতন গুলো খুলে নতুন ভাবে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
