৪ মে থেকে দেশব্যাপী মাদক নির্মূলে র্যাব-পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান চললেও চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চলছে নভেম্বর থেকে। গত বছর নভেম্বরে পুলিশের দুজন এডিশনাল আইজিপি আলমডাঙ্গা সফরে এসে মাদক নির্মূলে পুলিশকে সর্বাত্মক অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দিয়ে যান। এরপর থেকে আলমডাঙ্গা পুলিশ উপজেলাজুড়ে মাদক নির্মূলে চিরুণী অভিযান চালাতে থাকে। এই কয় মাসের অভিযানে বিপুল সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীকে আটক করে পুলিশ। উদ্ধার করা হয় মাদকদ্রব্য।
আলমডাঙ্গার সন্তান এডিশনাল আইজিপি সফিকুল ইসলাম ও মীর শহিদুল ইসলাম পদোন্নতি পেয়ে গত বছরের নভেম্বর মাসে পৃথক সময়ে আলমডাঙ্গায় আসেন। তাঁরা দুজনই চুয়াডাঙ্গা ও আলমডাঙ্গা পুলিশ এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠকে বসেন। এ সময় মাদক বন্ধে পুলিশকে চরমপত্র দিয়ে যান। কড়া হুশিয়ারী দিয়ে যান তাঁদের জন্মস্থানকে মাদকমুক্ত করে দিতে হবে।
IMG0
থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জিহাদ খান ইত্তেফাককে জানান, এডিশনাল আইজিপি মহোদয়ের এই নির্দেশনা পাওয়ার পর আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ মাদক বন্ধে চারটি ধাপ অনুসরণ করে এগিয়ে যেতে থাকে। প্রথম ধাপে চিরুনী অভিযানে উপজেলার রাঘববোয়াল মাদক ব্যবসায়ীদের আটক করে জেলে পাঠানো হয়। দ্বিতীয় ধাপে উপজেলার হাট-বাজারে ক্যাম্পিং করে মাদককে না বলার মোটিভেশন করা হয়। মোটিভেশন শেষে তৃতীয় ধাপে উপজেলাব্যাপী ছোট-খাটো মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের আটক করা হয়। এখন চলছে চতুর্থ বা শেষ ধাপ। মাদক বন্ধে পুলিশের মরণকামড়।
উপজেলার সবকয়টি ক্যাম্প ইনচার্জের মাধ্যমে তার এলাকার প্রতিটি গ্রামের প্রতিটি মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবীদের লিস্ট করা হয়েছে। লিস্ট অনুযায়ী আটক করা হচ্ছে।
আবু জিহাদ খান আরো জানান, ইতোমধ্যে ১৩৬ জন মাদক ব্যবসায়ীর নামে মাদক নিয়ন্ত্রন আইনে মামলা হয়েছে। ২৪৭ জন মাদকসেবীকে জেলে পাঠানো হয়েছে। প্রায় ২৫শ ইয়াবা, ৩৪শ গ্রাম গাঁজা, ১শ ৪ গ্রাম হেরোইন ও ১৫০ বোতল ফেন্সিডিল উদ্ধার করা হয়।
তিনি জানান, আলমডাঙ্গায় কোন 'মাদক' শব্দ থাকবে না। এটা বন্ধ করতে যতটা কঠোর হওয়া প্রয়োজন পুলিশ হবে।
ইত্তেফাক/নূহু
