সাভারে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বহিস্কার, কমিটি বিলুপ্ত

আপডেট : ২২ মে ২০১৮, ১৭:৩৫
সাভারে সড়ক ও জনপথের জমিতে নির্মিত বাজার থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে দফায় দফায়  সংঘর্ষ, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও গোলাগুলির ঘটনায় উলাইল ও কাতলাপুর মহল্লায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ব্যবসায়ীসহ এলাকাবাসীর মনে এখনও আতঙ্ক কাটেনি।
 
এদিকে চাঁদাবাজী ও হামলার ঘটনায় জড়িত থাকাসহ সংগঠন বিরোধী কার্যকলাপ ও দলীয় শৃংখলা ভঙ্গের দায়ে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটি সোমবার রাতে এক জরুরি সভায় সাভার উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান আতিককে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করেছে। একইসঙ্গে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটিকেও বিলুপ্ত করা হয়েছে।
 
ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন বলেন, এর আগে গত বছরের মার্চ মাসে সাভারে ঝুট ব্যবসায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঢাকা জেলা উত্তর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) এসআই জিল্লুর রহমানকে মারধরের অভিযোগে উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি স্থগিত ও আতিককে সাময়িকভাবে বহিস্কার করা হয়েছিলো। 
 
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী  সুত্রে জানা যায়, কয়েকদিন ধরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের উলাইল বাসস্ট্যান্ড এলাকায় সওজের জমিতে নির্মিত অবৈধ বাজার থেকে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে উপজেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তারের  বিরোধ চলে আসছিলো। রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতান তার লোকজন নিয়ে উলাইল বাজারে চাঁদা আদায় করতে যায়। এ সময় কাউন্সিলরের নির্দেশে ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় তাদের মধ্যে বাক বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এক পর্যায়ে ব্যবসায়ী ও কাউন্সিলরের সমর্থকরা ছাত্রলীগ নেতা টিপু সুলতানকে মারধর করে।
 
এ ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে রাত ১১টার দিকে অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে  ১৫/২০টি মোটরসাইকেল নিয়ে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কাউন্সিলর আব্দুস সাত্তারের বাড়িতে হামলা চালায়। এ সময় ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তার গাড়িকে লক্ষ্য করে কয়েক রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে। কাউন্সিলর এ সময় গাড়িতে ছিলেন না।
 
এ দিকে কাউন্সিলরের বাড়িতে হামলার খবর পেয়ে আশেপাশের দোকানদার ও স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে এলে তাদের সঙ্গে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের প্রতিহত করতে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে তাদের ধাওয়া করে।
 
এলাকাবাসীর তোপের মুখে ছাত্রলীগের নেতা কর্মীরা প্রাণ ভয়ে তাদের ৫টি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে কয়েক রাউন্ড ফাঁকা গুলি ছুড়ে পালিয়ে যায়। পরে উত্তেজিত জনতা ওই ৫টি মোটর সাইকেলে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও মোটরসাইকেল গুলো পুড়ে যায়।
 
এ ঘটনায় মুহূর্তের মধ্যে এলাকার দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায়। গোটা এলাকা পরিণত হয় রণক্ষেত্রে। তারাবির নামাজ পড়তে আসা মুসল্লিরা দিগ্বিদিক ছুটাছুটি করতে থাকে। আতংক ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনলেও হামলার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।
 
পৌর কাউন্সিলর হাজী আব্দুস সাত্তার বলেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি (বহিস্কৃত) আতিকুর রহমান আতিকের ক্যাডার টিপু সুলতান আমার মার্কেটের ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করে।  কিন্তু আমি ব্যবসায়ীদের চাঁদা দিতে নিষেধ করায় অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে সন্ত্রাসী স্টাইলে আতিকের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা আমার বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে আমার গাড়িতে গুলি ছোঁড়ে। এঘটনায় এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে হামলাকারীদের ধাওয়া দিলে তারা পিছু হটতে বাধ্য হয়।
 
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মহসিনুল কাদির বলেন, উলাইল বাজারে চাঁদা আদায়কে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রয়েছে।
 
ইত্তেফাক/নূহু