অচিরেই সুন্দরবন বনদস্যু-জলদস্যু মুক্ত হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ২৩ মে ২০১৮, ১৭:৫৬
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, অচিরেই সুন্দরবনকে বনদস্যু-জলদস্যু মুক্ত ঘোষণা করা হবে। আমরা যেভাবে জঙ্গি-সন্ত্রাসীদের দমন করেছি, সেভাবেই সুন্দরবন থেকে বনদস্যু-জলদস্যুদেরও দমন করা হবে। যারা এদের সহযোগিতা করেছে তাদেরও আইনের মুখোমুখি করা হবে। কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না।
 
বুধবার দুপুরে খুলনাস্থ র‌্যাব-৬-এর কার্যালয়ে জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং সাবেক জলদস্যুদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। 
 
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপার সম্ভাবনাময় সুন্দরবন। কি নেই এ বনে। সৌন্দর্য্যের এই লীলা ভূমিতে বনদস্যু-জলদস্যুরা অবস্থান নিয়েছিল। র‌্যাবসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ছয়টি বনদস্যু বাহিনী ভুল বুঝতে পেরে আজ আত্মসমর্পণ করল।
 
প্রধানমন্ত্রীর উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাদের সব সময় বলেন- আমরা যদি তাৎক্ষণিক তাদের শাস্তি দেই তাহলে তারা তাদের ভুল বুঝতে পারবে না। আমরা তাদেরকে সংশোধন হওয়ার সুযোগ করে দিয়েছি। তারা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘোষণায় দেননি, নির্দেশনাও দিয়েছেন তারা যেভাবেই হোক, ভুল বুঝে হোক, অভাবের তাড়নায় হোক বা যে কোন অবস্থার কারণে হোক অথবা দস্যুগীরির কারণেই হোক, তারা ভুল পথে গেছে।  এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসায় তাদের জীবিকার ব্যবস্থা করতে হবে। এজন্য তিনি প্রত্যেকের জন্য এক লাখ টাকার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আজকে শত শত জলদস্যু স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসছে।’ 
 
দেশে উন্নত আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমাদের দেশে চার লাখ বিদেশি চাকরি করছেন। এটা একথাই প্রমাণ করে যে আমাদের দেশ উন্নয়নের পথে ধাবিত হচ্ছে। সে কারণেই বিদেশিরা এদেশে আসছে। আবার আমাদের দেশের বহু লোকও বিদেশে যাচ্ছে। 
 
তিনি পুলিশের কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, আজকের পুলিশ আর দশ বছর আগের পুলিশ এক নয়। আজকের পুলিশ নিজের জীবন বিপন্ন করেও কাজ করছে। তারা জঙ্গি দমনে জীবন দিয়েছে। তারা দস্যু দমনে নিজের জীবন বিপন্ন করে জঙ্গলেও কাজ করছে। বঙ্গবন্ধু যে পুলিশের স্বপ্ন দেখতেন, এখনকার পুলিশ তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দেশের নিরাপত্তায় সেই ধরনের কাজ করছে। 
 
মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, খাদ্য ভেজালমুক্ত করতে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন ইতোপূর্বে যেভাবে অভিযান পরিচালনা করেছে, মাদকের বিরুদ্ধেও সেভাবে অভিযান চালানো হবে। র‌্যাবসহ একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা আমাদের কাছে তালিকা দিয়েছে কারা মাদক ব্যবসা করে, কারা এর সঙ্গে জড়িত আর কারা এগুলো বহন করে। আমরা সেই তালিকা অনুযায়ী বড় বড় মাদক ব্যবসায়ীদের ধরার চেষ্টা করছি। 
 
ক্রসফায়ার সম্পর্কে আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, পুলিশ কাউকেই ক্রস ফায়ার দেয় না। যারা শুধু চ্যালেঞ্জ করে তারাই ক্রসফায়ারের শিকার হচ্ছে। আমাদের নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা আগে কখনই গুলি করে না, যতক্ষণ পর্যন্ত তারা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি না হয়। জীবন রক্ষার্থেই তারা শুধু গুলি চালায়। এতে শুধু সন্ত্রাসী, বনদস্যু, মাদক ব্যবসায়ীরাই নিহত হচ্ছে না, তাদের গুলিতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও আহত হচ্ছে। 
 
জলদস্যুদের আত্মসমর্পণ এবং সাবেক জলদস্যুদের পুনর্বাসনে প্রধানমন্ত্রী প্রদত্ত অনুদানের চেক হস্তান্তর অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন র‌্যাব-৬’র পরিচালক অতিরিক্ত ডিআইজি খোন্দকার রফিকুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী নারায়ণচন্দ্র চন্দ। অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. মো. মোজাম্মেল হোসেন, আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপন, খুলনা সিটি করপোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ, নৌপুলিশের ডিআইজি শেখ মো. মারুফ হাসান, র‌্যাব-৮’র অধিনায়ক আতিকা ইসলাম, খুলনা রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. হাবিবুর রহমান এবং খুলনা জেলা প্রশাসক মো. আমিন উল আহসান।
 
ইত্তেফাক/ইউবি