ভারতে লোকসভা ও বিধানসভার উপনির্বাচনে হার কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে। ভাটা পড়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ঝড়ে। এর আগেও কয়েকটি উপ-নির্বাচনে হারে বিজেপি। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলো একজোট হয়ে লড়াই করে। আগামী লোকসভা নির্বাচনেও একইভাবে লড়াইয়ের অঙ্গীকার করেছে সব বিরোধী দল।
কর্নাটকে জনতা দলের (সেক্যুলার) সঙ্গে চলা কংগ্রেসের মতবিরোধ কেটে গেছে। গতকাল দল দুটি ঘোষণা দিয়েছে, তারা সমস্যার সমাধান করে ফেলেছে। ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনেও তারা একসঙ্গে লড়াই করবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উপ-নির্বাচনে হারার মাধ্যমে লোকসভা নির্বাচনের আগেই বিপদঘণ্টা বেজে উঠল গেরুয়া তথা মোদী শিবিরে। বৃহস্পতিবার লোকসভা এবং বিধানসভা মিলিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ১৫টি কেন্দ্রে উপ-নির্বাচনের (যার মধ্যে ৪টি লোকসভা কেন্দ্র) ফলাফলে স্পষ্ট যে দেশজুড়ে জোরালো হচ্ছে বিজেপিবিরোধী হাওয়া। বিজেপি জিতেছে মাত্র দু’টিতে। একটি আসনে (নাগাল্যান্ড) বিজেপি সমর্থিত এনডিপিপি। বাকি ১২টিতেই বাজিমাত করেছেন বিরোধীরা।
গত দু’বছরে ৬টি লোকসভা কেন্দ্রের উপনির্বাচনে হেরেছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার আরো দু’টি লোকসভা কেন্দ্রে হারের পরে রাজনৈতিক হিসেবে তো বটেই, অঙ্কের হিসেবেও বিজেপি বেশ চাপে। বিরোধীরা স্বাভাবিকভাবেই ফলাফলে উচ্ছ্বসিত। বিরোধী নেতাদের বক্তব্য, বিজেপির বিরুদ্ধে যেখানেই এককাট্টা হয়ে লড়াই করা হয়েছে, সেখানেই উড়ে গেছে অমিত শাহ-নরেন্দ্র মোদীদের কৌশল। পরবর্তী লোকসভা ভোটে এটাই পথ দেখাবে। কংগ্রেস সভাপতি রাহুল গান্ধী টুইটারে জয়ী প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। আবার উত্তরবঙ্গ সফররত মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি বলেন, বৃহস্পতিবার বিভিন্ন রাজ্যের ভোটের ফলাফল বিজেপির জন্য অশনি সংকেত।
ভোটের পরে মনোবল চাঙ্গা করার জন্য অন্ধকারেও রূপোলী রেখা খুঁজছেন বিজেপি নেতারা। দলের নেতা শাহনওয়াজ হুসেনের কথায়, গত চার বছরে নেতা-কর্মীদের একটা অংশের মধ্যে আত্মতুষ্টি এসে গিয়েছিল। লোকসভা ভোটের আগে উপ-নির্বাচনের এই ফলাফল তাই শাপে বর হলো। প্রায় একই সুরে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ বলেন, একটা বড় লাফ দিতে গেলে দু’পা পিছতে হয়। আমরা বড় লাফই দেবো।-টাইমস অব ইন্ডিয়া ও আনন্দবাজার পত্রিকা।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
