আর কয়েকদিন পর পবিত্র ঈদুল ফিতর। যাত্রী ও যানবাহন পারাপার নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসন তৎপর হলেও দেশের গুরুত্বপূর্ণ দৌলতদিয়া-খুলনা জাতীয় মহাসড়কের রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ঘাটে বাড়তি ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে যাত্রীদের। পাকা সড়কের কার্পেটিংসহ খোয়া, ইট-সুরকি উঠে গর্ত ও খানাখন্দ তৈরি হওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে।
জানা যায়, দৌলতদিয়া ফেরিঘাট টার্মিনালের শুরু থেকে দক্ষিণাঞ্চলমুখি আড়াই কিলোমিটার পর্যন্ত চারলেন রয়েছে। চারলেন সড়কের শুরু থেকে ফেরিঘাট পর্যন্ত প্রায় অংশে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বেশ কয়েকটি বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। যেখানে বৃষ্টির পানি জমে হাঁটু পর্যন্ত দেবে যায়। মাঝে-মধ্যে যানবাহনের চাকা আটকে বিকল হয়ে পড়ে। কিছুদূর ঘাটের দিকে এগোতে ক্যানেল ঘাট এলাকায় ছোট-খাটো গর্ত থাকলেও চারলেন সড়ক শেষে টার্মিনাল এলাকার কুষ্টিয়া বাস কাউন্টারের সামনে বেশ কয়েকটি বিশাল আকারের গর্ত তৈরি হয়েছে। টার্মিনাল থেকে নিচু হওয়ায় সড়কে দীর্ঘদিন ধরে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। পথচারী তো দূরের কথা রিকশা-ভ্যান, অটোরিকশা বা মাহেন্দ্রের মতো ছোট ইঞ্জিন চালিত যানকেও ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয়। এমনকি মাঝেমধ্যে এগুলো উল্টেও যায়। পানি ছিটে আশপাশের দোকানের মালামাল নষ্ট হওয়াসহ পথচারীদের পোশাক নষ্ট হয়ে যায়।
কুষ্টিয়া বাস কাউন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত বাচ্চু বেপারীসহ কয়েকজন জানান, ঢাকাসহ দূর-দূরান্ত থেকে আসা দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অধিকাংশ যাত্রী নদী পাড়ি দিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে এসে বাসের জন্য কাউন্টারের সামনে অপেক্ষা করতে থাকে। কিন্তু স্বাভাবিক উপায়ে কোন যাত্রী টিকিট কাটা এমনকি বাসে পর্যন্ত উঠতে পারে না। কাদাযুক্ত গর্তে গাড়ি দাঁড়াতে না পেরে তাদেরকে নানা ধরণের বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়।
স্থানীয় খাবার দোকানদার কালু শেখ ও আউয়ালসহ কয়েকজন বলেন, লঞ্চ বা ট্রলার ঘাটে পৌঁছাতে এই সড়কটি ব্যবহার করতে হয়। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সড়ক দিয়ে লঞ্চ বা ফেরি ঘাটে চলাচল করে। সড়কজুড়ে বেশ কয়েকটি বড় বড় গর্তের কারণে বৃষ্টির পানি জমে থাকায় মাঝে-মধ্যে ছোট-খাটো দুর্ঘটনা ঘটে। কোন দ্রুতগামী গাড়ি গেলে কাদাপানি ছিটে আশপাশে প্রায় দোকানের জিনিসপত্র নষ্ট হয়ে যায়।
ঢাকাগামী একটি দূরপাল্লার পরিবহন চালক হেলাল মাহমুদ বলেন, ফেরিঘাট একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। এখানকার সড়কগুলো থাকার কথা সবচেয়ে ভালো এবং সুন্দর। কিন্তু ঘাটে নানা ভোগান্তির সাথে আরো বাড়তি ভোগান্তি যোগ হয়েছে দেড়-দুই কিলোমিটার এলাকাজুড়ে সড়কের খানাখন্দ। ঘাটের কাছে এসে বড় বড় গর্তে চাকা পড়ে গাড়ির ইঞ্জিনে পানি ঢুকে বন্ধ হয়ে যায়। মাঝে মধ্যে অনেক গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ বিকল হয়ে পড়ে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন সংস্থা (বিআইডব্লিউটিসি) দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম জানান, ফেরিঘাট সড়কের টার্মিনাল এলাকায় অনেক ধরে সমস্যা চলছে। মাঝেমধ্যে কিছু ইট-সুরকি ফেলে সংস্কার করলেও কয়েকদিন পর পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। যে কারণে মাঝে-মধ্যে এখানে এসে গাড়ির গতি কমে যায়। এমনকি অনেক সময় যন্ত্রাংশ বিকল হওয়ায় সড়কে যানজটের সৃষ্টি হয়। গত ২০ মে জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ঘাট সংক্রান্ত সভায় গুরুত্বের সাথে সমস্যাগুলো তুলে ধরা হয়েছে।
IMG0
রাজবাড়ী সড়ক ও জনপদের (সওজ) নির্বাহী প্রকৌশলী কে.বি.এম সাদ্দাম হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, প্রায় দুই মাস আগে দৌলতদিয়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে চারলেন সড়কের ফেরি ঘাট টার্মিনাল পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার সড়ক সংস্কার বা মেরামতের জন্য দরপত্র প্রদান করা হয়েছিল। ফরিদপুরের মেসার্স ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন নামের এক প্রতিষ্ঠানের কাজ করার কথা। ২৯ লক্ষাধিক টাকা ব্যয়ে মেরামত কাজ আসন্ন ঈদের অন্তত ১৫ দিন আগে শুরুর কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যথাসময়ে কাজ শুরু হলে আশাকরি সমস্যা আর থাকবে না।
ইত্তেফাক/এসএস
