যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা বিষয়ক গোয়েন্দা সংস্থার(ডিআইএ) এক সাবেক কর্মকর্তাকে চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে। ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্যে পাচার করার শর্তে চীনের কাছ থেকে ৮০ লাখ ডলার নিয়েছিলেন। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
মার্কিন বিচার বিভাগকে উদ্ধৃত করে খবরে বলা হয়, ডিআইএ’র সাবেক গোয়েন্দা রন রকওয়েল হানসেন, শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য নিয়ে চীনের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার সময় বিমানবন্দর যাওয়ার পথে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
বিচার বিভাগ বলেছে, তিনি চীনের এজেন্ট হিসেবে তথ্য পাচারের চেষ্টা করছিলেন। এই তথ্য পাচার করতে পারলে তিনি অন্তত ৮ লাখ মার্কিন ডলার পেতেন। আদালতে নিজ অঙ্গরাজ্য উতাহে ফিরে গিয়ে এসব অভিযোগের মোকাবিলা করতে রাজি হয়েছেন হানসেন।
মার্কিন গোয়েন্দাদের বিরুদ্ধে বেইজিংয়ের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এই প্রথম আনা হয়নি। এর আগেও আরো বেশ কয়েকজন গোয়েন্দার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ আনা হয়েছে।
হানসেনের জন্ম উতাহ অঙ্গরাজ্যের সাইরাকাসে। তাকে ২০০৬ সাল থেকে ডিআইএ’তে কাজ করছেন তিনি। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বেইজিংয়ে চীনা গোয়েন্দাদের সঙ্গে দেখা করেছেন। কয়েক বছর ধরে দুই পক্ষের জন্য ‘ডাবল এজেন্ট’ হিসেবে কাজ করছিলেন তিনি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তার চুক্তি ছিল এমন যে, ডাবল এজেন্ট হিসেবে কাজ করলেও মূলত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেই তার স্বার্থ নিহিত থাকবে।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, তিনি নিয়মিতভাবে চীনা গোয়েন্দাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতেন। কিন্তু ওইসব সাক্ষাতের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অবহিত রতেন না। এমনকি চীনা গোয়েন্দাদের দেয়া মুঠোফোনও ব্যবহার করতেন এবং এ বিষয়টিও যুক্তরাষ্ট্রকে জানাননি তিনি।
তদন্তকারীরা বলেন, ২০১৩ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে কঠিন আর্থিক সংকটে ভুগছিলেন হানসেন। কয়েক লাখ ডলার ঋণ ছিল তার। এই সময়টুকুতে তিনি চীনের কাছ থেকে ৮০ লাখ ডলারেরও বেশি অর্থ নিয়েছেন। মাঝেমাঝে তিনি চীন থেকে যুক্তরাষ্ট্রে যে অর্থ নিয়ে আসতেন তার হিসেব দিতে পারতেন না।
এই বছরের শুরুর দিকেই এফবিআই জানতে পারে যে, হানসেন তার মার্কিন সহকর্মীদের কাছ থেকে উত্তর ও দক্ষিণ কোরিয়া নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান সম্পর্কে এবং চীনের বিরুদ্ধে দেশটির সামরিক অভিযান সম্পর্কে গোপন তথ্য জানার চেষ্টা করছেন। এইসব তথ্য তিনি চীনা গোয়েন্দাদের কাছে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন।
হানসেনের বিরুদ্ধে বিদেশি সরকারকে সহযোগিতার উদ্দেশ্যে জাতীয় প্রতিরক্ষা তথ্য সংগ্রহ করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এছাড়া চীনের অনিবন্ধিত বিদেশি এজেন্ট হিসেবে কাজ করা, মুদ্রা পাচার, সন্দেহজনক আর্থিক কর্মকাণ্ড এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে পণ্য পাচারের অভিযোগসহ মোট ১৫টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগ প্রমাণ হলে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি আজীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।
এর আগে জানুয়ারি মাসে জেরি চুন শিং লি নামের এক সাবেক সিআইএ এজেন্টকে চীনে তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। গত বছর, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা কেভিন ম্যালরিকে চীনের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া মার্কিন কূটনীতিক ক্যান্ডিস ম্যারি ক্লেয়ারবনকে চীনে গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের কাছ থেকে তথ্যের বিনিময়ে অর্থ নেয়ার অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়।
ইত্তেফাক/ জেআর
