দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের কাজও শুরু করেছি: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ০৭ জুন ২০১৮, ০২:৪২
বাংলাদেশের প্রথম বাণিজ্যিক স্যাটেলাইটের সফল উেক্ষপণের পর দ্বিতীয় স্যাটেলাইটের প্রস্তুতিও ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে বলে সংসদকে জানালেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী তার জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে একথা জানিয়ে বলেন, একটি স্যাটেলাইট তৈরি করতে ৫-৬ বছর  লেগে যায়। সেইজন্য বঙ্গবন্ধু-২ স্যাটেলাইট তৈরি করতে এখন থেকেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। একটা থাকলে আরেকটি যেন চালু হয়ে যেতে পারে সেটা মাথায় রেখেই ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করে দিয়েছি। দ্বিতীয়টির টাইম শেষ হয়ে এলে আমরা বঙ্গবন্ধু-৩ এ যাবো। এভাবে পর্যায়ক্রমে আমাদের ধারাবাহিকতা চালিয়ে যাব।
 
 
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুস্তম আলী ফরাজীর এই সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, স্যাটেলাইটের আয়ুষ্কাল ১৫ বছর। আমরা যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই। যখন যে প্রযুক্তি আসবে সেটা যেন আমরা গবেষণা, ধারণ ও ব্যবহার করতে পারি- সেই ব্যবস্থা আমরা নেব। এখন স্যাটেলাইটের যুগ, আমরা এটি পাঠিয়েছি। দেখি নতুন কী যুগ আসে, আমরা সেদিকেও যাব। যখনই যেটা আধুনিক ও যুগোপযোগী হবে সেটাই আমরা চিন্তা-ভাবনা করব।
 
বঙ্গবন্ধু-১ স্যাটেলাইট উত্?ক্ষেপণের পর এ নিয়ে বিএনপির অভিযোগের বিষয়ে সংরক্ষিত আসনের আওয়ামী লীগ দলীয় সদস্য ফজিলাতুন নেসা বাপ্পীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, স্যাটেলাইট উেক্ষপণে দেশে-বিদেশে সকল বাঙালি খুশিতে উদ্বেলিত। খুশিতে সকলের চোখে আনন্দ অশ্রু। আমরা খুশিতে চোখের পানি রাখতে পারিনি। কিন্তু সব মানুষ যখন এত খুশি, বিএনপির কেন দুঃখ? পৃথিবীর বহুদেশ আমাদের বহু ?পূর্বে স্যাটেলাইট উেক্ষপণ করেছে। আমরা কেন পারলাম না। স্যাটেলাইটের মালিকানা নিয়ে বিএনপির অভিযোগের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইটের মালিকানা অবশ্যই বাংলাদেশের। সরকার যেভাবে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মালিক হয় সেইভাবে বাংলাদেশ সরকারই এর মালিক। তবে এটি ব্যবহার করার ক্ষেত্রে যারা যতটুকু ভাড়া নেবে তারা ততটুকুর মালিক হবে।
 
শেখ হাসিনা বলেন, দুজন ব্যক্তি তো এর মালিক হতে পারে না। এ ধরনের মন্তব্য করাটাও লজ্জাজনক। এর ৪০টি ট্রান্সপন্ডার আছে। এরমধ্যে বাংলাদেশের প্রয়োজন হবে ২০টি। বাকি ২০টি আমরা সার্কভুক্ত দেশসহ আশপাশের বিভিন্ন দেশের কাছে ভাড়া দিতে পারব। এখানে দুই ব্যক্তি মালিক কীভাবে হলো সেটা বুঝতে পারছি না। কোনো মানুষের দেশ ও দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা থাকলে এবং স্বাধীনতায় বিশ্বাস করলে ওই ধরনের মন্তব্য করতে পারে না। স্যাটেলাইটের ডিটিএইচ (ডাইরেক্ট টেলিভিশন টু হোম) টেকনোলজি ব্যবহারের জন্য বোধ হয় দুজন ব্যক্তিকে ভাড়া দেয়া হয়েছে। বিএনপি দুজন মালিক বলতে সেটাকে বুঝছে কী না বোধগম্য নয়। এ ধরনের অর্বাচীনের মতো কথা বলা, জাতির কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। এরা দেশ চালিয়েছে দেশের উন্নতি হবে কী করে? এরা চালালে দেশ ?উন্নত হবে না।
 
স্যাটেলাইটের সুবিধা পাওয়া নিয়ে জাতীয় পার্টির (জাপা) সংসদ সদস্য ফখরুল ইমামের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্যাটেলাইট ইতোমধ্যে তার কক্ষপথে পৌঁছে গেছে। সিগন্যাল দিতে শুরু করেছে। একবার যখন কাজ শুরু করে দেবে তখন কোনো সমস্যা হবে না। কোনো সন্দেহ করার কিছু নেই। এটা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তার দরকার  নেই। আর এটুকু বলবো, না বলা কথাটি রবে না গোপনে।