প্রস্তাবিত ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে যেসব পণ্যের দাম কমানোর প্রস্তাব করা হয়েছে:
দেশে সংযোজিত মোবাইল ফোন সেট: প্রস্তাবিত বাজেটে মোবাইল ফোনের কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমানো হয়েছে ২৪ শতাংশ পর্যন্ত। লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, লিথিয়াম পলিমার ব্যাটারি, ভাইব্রেটর, মটর, রিসিভার, এয়ারফোন বাটন, বিভিন্ন যন্ত্রাংশের কাভার, ইউএসবি ও ওটিজি ক্যাবলসহ ৪৪টি আইটেমে শুল্ক কমানো হয়েছে। আগে এসব উপকরণে ৫, ১০, ১৫ ও ২৫ শতাংশ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছিল। এখন ৪০টি উপকরণের ওপর সেটি ১ শতাংশ করা হয়েছে। আর বাকি চারটিতে ১০ শতাংশ প্রস্তাব করা হয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে সংযোজিত মোবাইল ফোন সেটের দাম কমবে।
হাইব্রিড গাড়ি ও মোটরসাইকেল: পরিবেশ দূষণ এবং জ্বালানি ব্যয় কমিয়ে আনার জন্য হাইব্রিড গাড়ি আমদানি উত্সাহিত করতে ১৮০০ সিসি পর্যন্ত আমদানি সম্পূরক শুল্ক ৪৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। একইসঙ্গে দেশীয় মোটরসাইকেল শিল্পের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মোটরসাইকেল তৈরির যন্ত্রাংশের শুল্ক কমানো হয়েছে। ফলে কমতে পারে মোটরসাইকেলের দাম।
রড: স্ক্র্যাপ আমদানির শুল্ক এক হাজার থেকে কমিয়ে ৮০০ টাকা ও রড তৈরিতে ব্যবহৃত কাঁচামালের ওপর আরোপিত সংরক্ষণমূলক শুল্ক ৫ শতাংশ কমানো হয়েছে। এতে বাজারে রডের দাম কমতে পারে। এছাড়া ফেরো এলয়ের রেগুলেটরি ডিউটি কমানোর কারণে কমতে পারে রডের দাম।
গুঁড়া দুধ: গুঁড়া দুধ আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করা হয়েছে। ফলে কমতে পারে এ পণ্যের দাম।
রুটি-বিস্কুট: গরিবের খাবার রুটি-বিস্কুটের দাম কমবে। কারণ ১০০ টাকা পর্যন্ত প্রতি কেজি হাতে তৈরি রুটি-বিস্কুটকে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
হাওয়াই চপ্পল: শর্তসাপেক্ষে ১৫০ টাকা পর্যন্ত প্লাস্টিক ও রাবারের তৈরি হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে এ জাতীয় পণ্যের দাম কমবে।
বীজ: কৃষিকাজে ব্যবহৃত বীজ আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ফলে চাষাবাদে ব্যবহৃত বীজের দাম কমতে পারে।
সফটওয়্যার: সব ধরনের সফটওয়্যার আমদানির শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। এতে সফটওয়্যারের দাম কমতে পারে।
যানবাহনের লিফ স্প্রিং: বাস-ট্রাকে ব্যবহৃত লিফ স্প্রিং আমদানিতে সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ করায় এ পণ্যটির দাম কমতে পারে।
ওষুধ: কিডনি রোগের প্রতিষেধক আমদানিতে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এতে কিডনি রোগীরা কিছুটা কম দামে হলেও ওষুধ কিনতে পারবেন। এছাড়া ক্যান্সার নিরোধক ওষুধ প্রস্তুতের জন্য আমদানি পর্যায়ে কয়েকটি উপকরণে রেয়াতি সুবিধা দেওয়া হয়েছে। ফলে ক্যান্সারের ওষুধের দাম কিছুটা কমতে পারে।
রেফ্রিজারেটর: দেশীয় রেফ্রিজারেটর শিল্পের ভ্যাট অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে। পাশাপাশি রেফ্রিজারেটর তৈরির যন্ত্রাংশের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ পর্যন্ত করা হয়েছে। ফলে কমতে পারে রেফ্রিজারেটরের দাম।
টায়ার-টিউব: টায়ার-টিউব উৎপাদনের কাঁচামালের শুল্ক কমানো হয়েছে। এতে দেশীয় তৈরি টায়ার-টিউবের দাম কমতে পারে। এছাড়াও ভুট্টার আটা, অ্যালুমিনিয়াম তার, কলমের কালি, পোল্ট্রি শিল্পে ব্যবহৃত সয়াবিন ওয়েল কেক, জাল, কার্বন রডের দাম কমতে পারে।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
