ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করার প্রবণতা দেখা দেয়ায়, অস্ট্রিয়ায় সাতটি মসজিদ বন্ধ এবং চল্লিশ ইমামকে বহিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর সেবাস্টিয়ান কুর্জ। অস্ট্রিয়া সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘এসব মসজিদ বিদেশি অর্থায়নে পরিচালিত এবং ইমামেরা অন্য দেশের রাজনৈতিক ভাবাদর্শে উজ্জীবিত।’
এছাড়া ‘আরব ধর্মীয় কমিউনিটি’ নামে একটি সংগঠন ভেঙে দেবার পদক্ষেপ নিয়েছে অস্ট্রীয় সরকার। এ প্রসঙ্গে সেবাস্তিয়ান কুর্জ বলেছেন, এ পদক্ষেপ হচ্ছে ‘রাজনৈতিক ইসলামের’ ওপর এক ক্র্যাকডাউন। অস্ট্রিয়ায় কোন রাজনৈতিক ইসলাম এবং উগ্রপন্থায় দীক্ষিত হবার প্রবণতার জায়গা নেই।
IMG0
সম্প্রতি ‘আইজিজিও’ নামের একটি নিরপেক্ষ মুসলিম সংগঠনকে সঙ্গে নিয়ে উগ্র ইসলামপন্থী বা জাতীয়তাবাদী যোগাযোগ আছে এমন মসজিদ বা ইমামদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয় অস্ট্রিয়ান কর্তৃপক্ষ। অস্ট্রিয়ান সরকার বলছে, দেশটির ২৬০ জন ইমামের মধ্যে ৬০ জনের ব্যাপারে তদন্ত করা হচ্ছে। যার ৪০ জন ‘এআইটিবি’ নামে তুর্কী সরকারের ঘনিষ্ঠ একটি মুসলিম গ্রুপের সদস্য।
এছাড়া গত এপ্রিল মাসে একটি ভিডিওতে দেখা যায় যে, অস্ট্রিয়ার স্কুলের বাচ্চারা তুরস্কের সেনার পোশাক পরে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময়কার গালিপোলির যুদ্ধ নিয়ে একটি নাটকের দৃশ্যে অভিনয় করছে। এর ছবি ফাঁস হওয়ার পর তা অস্ট্রিয়ায় তীব্র বিতর্ক তৈরি করে। এই স্কুলটি উগ্র তুর্কী জাতীয়তাবাদী গ্রুপ গ্রে উলভস দিয়ে পরিচালিত বলে মনে করা যায়- যার বিভিন্ন দেশে শাখা রয়েছে।
IMG1
এরপরেই ভিয়েনায় এক সংবাদ সম্মেলনে সেবাস্তিয়ান কুর্জ বলেন, অস্ট্রিয়ায় পাশাপাশি দুটি ভিন্ন ধারার সমাজ চলতে পারে না। এসময় কুর্জ আরো বলেন, তুরস্কের ইইউ সদস্যপদ পাবার আলোচনা যেন ভেঙে দেয়া হয়। বিবিসি।
ইত্তেফাক/সেতু
