সম্প্রতি বিশৃঙ্খলা ও নাটকীয়তার মধ্য দিয়ে শেষ হল গ্রুপ অফ সেভেন(জি-৭) এর বার্ষিক বৈঠক। বৈঠক শেষে বিভিন্ন টুইটের মধ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্রদের খেপিয়ে তুলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অবস্থার এতটা অবনতি হয়েছে যে, বৈঠক শেষে যৌথ বিবৃতি থেকে নিজের ঘোষণা প্রত্যাহার করে নিয়েছেন ট্রাম্প। এছাড়া, এইবারের বৈঠকের আয়োজক কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডোর প্রতি উল্লেখযোগ্যভাবে নানা কটু মন্তব্য করে যাচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও তার সহযোগীরা।
‘ট্রুডো বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পেছন দিকে ছুরি মেরেছে’
ট্রাম্পের সাথে বাণিজ্যিক ইস্যুতে একমত হননি ট্রুডো। ফলস্বরূপ তাকে টার্গেট করে নানা টুইট করে চলেছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে বাদ যাননি তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীরাও। সম্প্রতি ট্রাম্পের এক শীর্ষ অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ট্রুডো সম্বন্ধে বলেন, ট্রুডো বাণিজ্যে আমাদের পেছনে ছুড়ি মেরেছে।
ল্যারি কুডলো জানান, যুক্তরাষ্ট্র জি-৭ এর যৌথ বিবৃতি থেকে তাদের ঘোষণা সরিয়ে নেয়ার কারণ ছিল কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো। ট্রুডোর বিরুদ্ধে তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে পেছনে ছুরি মারার অভিযোগ এনেছেন।
সিএনএনের স্টেট অফ দ্য ইউনিয়ন অনুষ্ঠানে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কুডলো বলেন, ট্রুডো যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা করেছে আর খুব সহজেই ট্রাম্পের সঙ্গে বেইমানি করেছে। প্রসঙ্গত, জি-৭ বৈঠকে কুডলো উপস্থিত ছিলেন।
কুডলোর এমন মন্তব্যের নেপথ্যে রয়েছে এক সংবাদ সম্মেলনে দেয়া ট্রুডোর বক্তব্য। শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে নর্থ আমেরিকান ট্রেড এগ্রিমেন্টের(নাফটা) নিয়ম নীতিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিবর্তন আনতে অস্বীকৃতি জানান ট্রুডো।
এছাড়া তিনি বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের বাণিজ্য শুল্কের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ নেবে কানাডা।
ট্রুডোর এমন বক্তব্যে ক্ষেপে যান ট্রাম্প। তিনি ট্রুডোকে এক রাগান্বিত টুইটে, অসৎ ও দুর্বল বলে আখ্যায়িত করেন। পাশাপাশি জানিয়ে দেন, যৌথ বিবৃতিতে অংশ নেবে না যুক্তরাষ্ট্র।
জি-৭ এর যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী সাতটি দেশ সুষ্ঠু, অবাধ ও পারস্পরিক সুবিধাজনক বাণিজ্যের বিষয়ে ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়ে একমত হয়েছে।
কুডলো তার সাক্ষাৎকারে বলেন, ট্রাম্প উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের সঙ্গে বৈঠকের আগে নিজের মুখ বাঁচাতে বিবৃতি থেকে সরে আসেন।
কুডলো বলেন, এই মুহূর্তে পোটাস(মার্কিন প্রেসিডেন্ট) একজন কানাডিয়ান প্রেসিডেন্টের চাপ সহ্য করতে পারেন না। তাকে চাপে রাখুন, পোটাস। তিনি উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে বৈঠকের আগে কোন ধরণের দুর্বলতা প্রদর্শন মেনে নেবেন না। আর তার এমনটা করাও উচিত নয়।
‘ট্রুডোর জন্য জাহান্নামে বিশেষ জায়গা বরাদ্দ রয়েছে’
এদিকে শুধু ট্রাম্পের অর্থনৈতিক উপদেষ্টাই নন, তার বাণিজ্য বিষয়ক উপদেষ্টাও ট্রুডোর প্রতি কটু মন্তব্য করতে এগিয়ে এসেছেন। ফক্স নিউজ সানডে'তে উপস্থিত হয়ে পিটার ন্যাভারো ট্রুডোকে অভিশাপ দিয়ে বলেন, ট্রুডোর জন্য জাহান্নামের একটি বিশেষ জায়গা বরাদ্দ রয়েছে।
তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড জে ট্রাম্পের সঙ্গে নষ্ট বিশ্বাসের কূটনীতি করে দরজা দিয়ে বেরিয়ে যাবার সময় তাকে পেছন থেকে ছুরি মারার চেষ্টা করেছে এমন সকল বিদেশী নেতার জন্য জাহান্নামে একটি বিশেষ জায়গা বরাদ্দ রয়েছে। আর নষ্ট বিশ্বাসের জাস্টিন ট্রুডো ওই সংবাদ সম্মেলন দিয়ে ঠিক তাই করেছে।
আন্তর্জাতিক মহলের প্রতিক্রিয়া
ট্রুডোর একজন প্রতিনিধিকে এ বিষয়ে মন্তব্য করার অনুরোধ করা হলে তিনি অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টিয়া ফ্রিল্যান্ড সাংবাদিকদের বলেন, কানাডা কোন ব্যক্তি পর্যায়ে ব্যক্তিগত বিষয়ে হামলা করে কূটনীতি করে না। আর আমরা বিশেষ করে এ ধরণের হামলার জবাব দেয়া থেকে বিরত থাকি, যখন এই হামলা কোন ঘনিষ্ঠ মিত্র করে থাকে।
কানাডা নম্র থাকলেও অন্যান্য জি-৭ নেতারা অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনকে যৌথ বিবৃতি থেকে সরে আসার জন্য পাল্টা জবাব ঠিকই দিয়েছেন। ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রো বলেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে সহযোগিতা, ব্যক্তিগত রাগ বা অর্থহীন মন্তব্যের কারণে প্রভাবিত হতে পারে না।
বিবৃতিতে আরো বোলা হয়, আমরা দুই দিন ধরে কাজ করে একটা (যৌথ) বিবৃতি ও প্রতিশ্রুতি ঠিক করেছি। আমরা সেগুলো রক্ষা করবো। কেউ যদি সেগুলো পরিত্যাগ করে তাহলে সে ব্যক্তি অসঙ্গতি ও অনৈক্যের প্রমাণ দিয়েছে।
জার্মান চ্যান্সেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেল বলেন, টুইটের মাধ্যমে এই প্রত্যাহার, বলতে গেলে, অবশ্যই পরিস্থিতি আরো গুরুত্বর করে তুলেছে ও এটা কিছুটা হতাশাজনক। (দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে)।
ইত্তেফাক/ জেআর
