রংপুরে পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে থানায় মামলা দায়ের

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০১৯, ১৮:১৯

রংপুর নগরীতে পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মিন্টু বর্ম্মন (৩২) নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে। মিন্টু দুই সন্তানের পিতা। ধর্ষণের শিকার শিশুটি পান্ডারদিঘি ধাপ কামারপাড়ার এক দিনমজুরের কন্যা।

গত বুধবার রাতে ওই শিশুর মা বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামি করা হয়েছে ধর্ষক মিন্টু বর্ম্মন ও স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায়সহ চারজনকে। 

এ ঘটনাটি সালিশ বৈঠকের নামে ধামাচাপা দিতে সহযোগিতার অভিযোগে তিনজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। অত্র মামলার প্রধান আসামি মিন্টু বর্ম্মনকে শুক্রবার রাতে লালমনিরহাট জেলা থেকে গ্রেফতার করে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ।

এ ব্যাপারে রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, গত ১৫ এপ্রিল দুপুরে রংপুর নগরীর ৪নং ওয়ার্ডের ধাপ কামারপাড়ার এলাকার এক দিনমজুরকে একই এলাকার দুই সন্তানের জনক মিন্টু বর্ম্মন জমিতে ঘাস কর্তনের জন্য শ্রমিক হিসেবে কাজে নেয়। ওই শ্রমিক জমিতে ঘাস কর্তন করতে থাকলে এক পর্যায়ে মিন্টু বর্ম্মন ওই শ্রমিকরে বাড়িতে গিয়ে টিভি দেখারত অবস্থায় তার পঞ্চম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়েকে ধর্ষণ করে। এ সময় শিশুটি চিৎকার করলে প্রতিবেশীরা ছুটে আসে। ধর্ষক মিন্টু বর্ম্মন দ্রুত পালিয়ে যায়। এই সময় ওই শিশুটির মা অন্যের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলেন।

ওসি বলেন, কাজ শেষে বাড়িতে এসে মেয়ে এবং প্রতিবেশীর মুখে ধর্ষণের ঘটনা শুনে পুলিশের কাছে যেতে চাইলে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারা মীমাংসার দায়িত্ব নিয়ে কালক্ষেপণ করেন।

গত বুধবার রাতে মেয়েটির মা বাদী হয়ে ধর্ষক মিন্টু বর্ম্মন, ৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় হারা, ধর্ষকের শ্যালক সম্ভু রায়, টেংকু রায় ও প্রতিবেশী মেহেদুল ইসলামকে আসামি করে একটি ধর্ষনের মামলা দায়ের করেন।

ওসি আরও বলেন, ধর্ষণের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করে ধর্ষককে সহযোগিতার অভিযোগে ধর্ষকের শ্যালক সম্ভু রায়, টেংকু রায় ও মেহেদুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ধর্ষককেও গ্রেফতার করা হয়েছে।

মেয়েটিকে উদ্ধার করে ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে রাখা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালের ফরেনসিক বিভাগে তার ফরেনসিক পরীক্ষা করা হয়েছে।

ধর্ষণের শিকার শিশুটির বাবা বলেন, ‘মিন্টু তার জমিতে আমাকে ঘাস কাটার কাজে লাগিয়ে দিয়ে আমারই বাড়িতে ঢুকে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। এখন আবার আমাকেই মামলা তুলে নেওয়ার জন্য কাউন্সিলর হারাধন রায়, ধর্ষক মিন্টুর শ্যালক সম্ভু ও টেংকু রায় চাপ দিচ্ছে, হুমকি দিচ্ছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। আমি আমার মেয়ের সঙ্গে হওয়া ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তির শাস্তি চাই।’

আরও পড়ুনঃ শিবচরে স্কুলছাত্রী গণধর্ষণের মূলহোতা পারভেজ গ্রেফতার

এ ব্যাপারে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারাধন রায় বলেন, ‘ধর্ষণের ঘটনাটি ১৫ এপ্রিল ঘটেছে। দুই পক্ষই ১৬ এপ্রিল আমার কাছে এসেছিল। তখন আমি ছেলে পক্ষকে বলেছিলাম ছেলেকে হাজির করান, তারপর মীমাংসা। কিন্ত তারা আমাকে মামলাতে জড়িয়েছে। এটা ঠিক নয়।’

ইত্তেফাক/নূহু