ইতালীয় নাগরিক ক্রিস্টোফার কলম্বাস তরুণ বয়সেই সমুদ্রযাত্রায় খুঁজে পেয়েছিলেন আনন্দ। এরপর ১৪৭৩ সালে যোগ দেন এক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে। এই প্রতিষ্ঠানের হয়ে বিভিন্ন সময়ে সমুদ্রযাত্রা করতে হয়েছে তাকে। এর মাধ্যমেই সমুদ্রের নেশায় পড়ে যান তিনি। বাণিজ্যিক বন্দরগুলোতে নৌ অভিযান পরিচালনা করার পাশাপাশি ভারতে যাওয়ার পথ আবিষ্কার স্বপ্ন দেখতে থাকেন কলম্বাস। কোনপথে, কখন, কীভাবে যাত্রা করতে হবে সে সম্পর্কে তিনি একটা নিজস্ব পরিকল্পনাও দাঁড় করিয়ে ফেললেন। ঐ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন ছিল অনেক টাকার যা তার কাছে ছিল না। তাই তার অভিযানের পৃষ্ঠপোষকতার জন্য ইউরোপের বিভিন্ন রাজদরবারে আর্জি জানালেন। পর্তুগাল, ইতালি, ইংল্যান্ডের রাজদরবার তার আবেদন নাকচ করে দেয়। স্পেনের রাজদম্পতি আরাগনের দ্বিতীয় ফার্দিনান্দ এবং ক্যাস্টিলের রানি প্রথম ইসাবেলা তাকে অর্থায়ন করতে রাজি হলেন। ১৪৯২ এর জানুয়ারিতে পেলেন চূড়ান্ত অনুমোদন। তবে সাগরপথে ভারত আবিষ্কার করতে গিয়ে তিনি আবিষ্কার করে বসেন আমেরিকা মহাদেশ। ১৪৯২ সালের ১২ অক্টোবর কলম্বাস আমেরিকা মহাদেশ আবিষ্কার করেন। আমেরিকা আবিষ্কারের পর ১৪৯৩ সালে রাজা ফার্দিনান্দ ও রানি ইসাবেলাকে একটি চিঠি লিখেছিলেন। চিঠিতে কলম্বাস ক্যারিবীয় পাহাড়, উর্বর ভূমি, সোনা ও আদিবাসীদের কথা লিখেছিলেন। ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন সেই চিঠিটি কয়েক বছর আগে চুরি হয়ে গিয়েছিল স্পেন থেকে। ৫০০ বছর আগের সেই চিঠি-ই এবার স্পেনের কাছে ফিরিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
স্প্যানিশ ভাষায় লেখা চিঠিটি রাজা ফার্দিন্যান্দ ও ইসাবেলা রোমে পাঠিয়ে লাতিন ভাষায় রূপান্তর করিয়ে নিয়েছিলেন। এরপর হাতে লিখে এর অসংখ্য কপি করা হয়। কলম্বাসের নতুন মহাদেশ আবিষ্কারের খবর ছড়িয়ে দিতে এই কপিগুলো বিলি করা হয় ইউরোপের রাজা ও রানিদের মধ্যে। লাতিন ভাষার এই চিঠিরই একটি কপি সংরক্ষিত ছিল স্পেনের বার্সেলোনার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব কাতালোনিয়ায়। কিন্তু এক দশক আগে জানা যায়, সেখানে আসল চিঠিটি নেই, রয়েছে জাল একটি চিঠি। উদ্ধারের পর পাঁচশ বছর আগের সেই চিঠিটি গত সপ্তাহে স্পেনকে ফেরত দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনে স্পেনের রাষ্ট্রদূত পেদ্রো মোরেনেসের কাছে চিঠিটি হস্তান্তর করা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি ডেভিড ওয়েসিস বলেন, ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ এই চিঠিটি এর প্রকৃত দাবিদার স্পেনকে ফেরত দিতে পেরে আমরা খুবই সম্মানিত বোধ করছি। অন্যদিকে পেদ্রো মোরেনেস তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যের যে আত্মার সম্পর্ক রয়েছে তা এই চিঠির মধ্য দিয়েই বহিঃপ্রকাশ ঘটল। স্পেনের বার্সেলোনার ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব কাতালোনিয়ায় থাকা চিঠিটি যে জাল তা ধরা পড়ে ২০১২ সালে। লাইব্রেরি থেকে খোয়া যাওয়া চিঠিটি দুই জন ইতালিয় বই বিক্রেতা ছয় লাখ ইউরোর বিনিময়ে বিক্রি করে দেন। ২০১৩ সালের মার্চে চিঠিটি পুনরায় হাতবদল হয় ৯ লাখ ইউরোতে। ওই সময়ই ঘটনাটি নজরে আসে তদন্তকারীদের। এরপর চিঠির ক্রেতার সঙ্গে যোগাযোগ করেন তারা। ওই ব্যক্তি জানতেন না যে এই চিঠিটি বার্সেলোনা থেকে চুরি হয়েছিল। এটি যে কলম্বাসের সেই ঐতিহাসিক চিঠিই, তা নিশ্চিত হওয়ার পর তা উদ্ধার করে স্পেনের কাছে ফিরিয়ে দিল যুক্তরাষ্ট্র।-বিবিসি
