ঈদ মানি খুশি বা আনন্দ। আমরা বৎসরে দুটি ঈদ পালন করে থাকি। ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আযহা। রোজার ঈদকে ঈদুল ফিতর বলা হয়।
গরীব-দুঃখীদের ঈদ আর ধনীদের ঈদ এক সমান নয়। ধনীদের ঈদে বড় ধরনের বাজেট থাকে। তাদের মার্কেটিং-এর ধরন আলাদা, দামি দামি বস্ত্র। কে কার চাইতে মূল্যবান শাড়ি, কাপড়, পাঞ্জাবি পরিধান করতে পারে সেই প্রতিযোগিতায় মেতে ওঠে। ছেলে-মেয়েদের আলাদা আলাদা বাজেট থাকে। খাবারের ব্যবস্থা যে কত পদের তা হিসাবের বাইরে।
গরীবের ঈদ ভাঙাচুরা ঈদ। স্বল্প আয়, দুবেলা আহার জুটে না। পরিধানের বস্ত্র যোগান কঠিন হয়ে পড়ে। ঈদের আয়োজন কী করে করবে? তাই এদের নসিবে নতুন বস্ত্র জুটে না। পুরাতন কাপড় পরে ঈদগায় উপস্থিত হতে হয়। সন্তানেরা বারবার আবদার করে ব্যর্থ হয়। নিম্নমানের খাবার, কিছু দুধ আর সেমাই তাও ব্যবস্থা করতে কত কষ্ট। এ ধরনের গরীব অসহায় মানুষদের প্রতি নজর দেওয়া বিত্তবান ব্যক্তিদের অতি প্রয়োজন। ইসলামে যাকাত প্রথা চালু করার কারণ যাতে করে বছরে একবার হলেও রমজান মাসে ঈদের পূর্বে তারা গরীবদের ঘরে ঘরে প্রবেশ করে যাকাত থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ প্রদান করতে পারে, যাতে করে গরীবরাও স্বাচ্ছন্দ্যে ঈদ পালন করতে পারে।
প্রকাশ থাকে যে, সকল ধনী যদি সঠিকভাবে যাকাত প্রদান করে তাহলে গরীবদের সংখ্যা কমতে থাকবে। কারণ যাকাতের অর্থ থেকে একজন গরীবকে কিছু বেশি পরিমাণে দান করে তাকে ছোট খাট একটি ব্যবসার ব্যবস্থা করে দিলে হয়তবা সেও একদিন ইনশাআল্লাহ যাকাত প্রদান করতে সক্ষম হবে।
আজকাল যাকাত দেওয়ার পদ্ধতি অতি নোংরা ও নিম্নমানের। মাইকিং করে হাজার লোক জড়ো করে যাকাত প্রদান করা ঠিক নয়। এর ফলে পায়ের নিচে পিষ্ট হয়ে সুস্থ মানুষ মারা যায়। সঠিক নিয়ম হচ্ছে যাকাতের টাকা গরীবের ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া। কারণ আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, ‘তোমাদের সম্পদের মধ্যে গরীবের হক আছে’। এই প্রথা যদি চালু করা যায়, তবে ঈদের আনন্দ সকলের ঘরে পৌঁছে যাবে।
প্রকাশ থাকে যে, ঈদের দিন আসলে আমিরুল মুমিনিন হযরত ওমর (রা) কাঁদতে থাকতেন। এ ব্যাপারে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলতেন, ‘আমি কি সবার ঘরে ঈদের আনন্দ পৌঁছে দিতে পেরেছি?’
যাকাতের বস্ত্র এত নিম্নমানের হয় যে, তা ধৌত করে পরিধান করার যোগ্য থাকে না। হুজুর (স) বলেছেন, ‘তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করবে তা অন্যের জন্যও পছন্দ করবে।’ এটা যদি হয় তাহলে ঈদের আনন্দ কিছুটা হলেও প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাবে এবং প্রকৃত ঈদ উদযাপিত হবে।
লেখক : আন্তর্জাতিক ধর্মীয় বক্তা ও মোফাসসেরে কোরআন
