‘মাদকাসক্তি থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে যোগব্যয়াম কার্যকর মাধ্যম’

আপডেট : ২১ জুন ২০১৮, ১৮:৪২
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মাদকাসক্তি থেকে তরুণ প্রজন্মকে বাঁচাতে একটি শক্তিশালী ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে যোগব্যয়াম ভূমিকা রাখতে পারে। 
 
বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এ কথা বলেন। ভারতীয় দূতাবাসের সহযোগিতায় ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের আয়োজনে যোগ দিবসের এই আয়োজনে ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলো থেকে হাজারো স্বাস্থ্য সচেতন নাগরিক যোগ দেন। দিবসে যোগ প্রদর্শন, গণ যোগ সেশন ও একটি লাকি ড্র অনুষ্ঠিত হয়। 
 
ওবায়দুল কাদের বলেন, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি যোগব্যয়ামকে নতুন মাত্রা দিয়েছেন। পরে তা বাংলাদেশেও চলে এসেছে ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে। আজকে তরুণ সমাজে মাদক যখন হিংস্র ছোবল দিচ্ছে, যখন তা সুনামির মতো সারা বাংলাদেশে ছড়িয়ে যাচ্ছে, তখন ইয়োগা বা যোগ ব্যয়াম শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে পারে। 
 
যোগব্যয়াম করলে শরীর ও মন ভালো থাকবে- যুব সমাজকে এমন পরামর্শ দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘যোগ ব্যায়াম করলে শরীর ও মন ভালো থাকবে। টেনশন দূর হবে। ঈর্ষা কাতরতা থাকবে না। মানসিক যন্ত্রণা দূর হবে। এসব তথ্য অবশ্য আমি ইন্টারনেট থেকে পেয়েছি।’ 
 
তিনি বলেন, এখন তরুণ সমাজ স্বতঃস্ফূর্তভাবে যোগব্যয়ামে যোগ দিয়েছে। কর্মক্ষম সুস্থ জীবনের মূল মন্ত্র হল- এই  ইয়োগা ব্যয়াম। এই ব্যয়াম করলে তরুণরা নিজেদের আরো বেশি সৃজনশীল কর্মোদ্যমে নিজেদের নিয়োজিত করতে পারবে। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিজের হাঁটু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তিনি যোগ ব্যায়াম করতে পারেন না। 
 
অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বীরেন শিকদার বলেন, সুস্থ ও নিরোগ শরীর, সুস্থ ও সুন্দর মনের জন্য যোগব্যয়াম কার্যকরী ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, যোগব্যায়াম ভারতীয় উপমহাদেশের মানুষের নিজস্ব সৃষ্টি। এতে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া নেই। ধীরে ধীরে এই ব্যায়ামের জনপ্রিয়তা সারাবিশ্বেই বাড়ছে।
 
আয়োজকদের পক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাই কমিশনার হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা বলেন, চতুর্থবারের মতো আয়োজিত এই যোগব্যয়াম সমাবেশে প্রায় ৫ হাজার নাগরিক যোগ দিয়েছেন। শারীরিক প্রতিবন্ধী নাগরিকরাও যোগ দেন আয়োজনের এক পর্যায়ে।
 
তিনি বলেন, যোগচর্চা সুস্থ, সুন্দর জীবনের সহজ পন্থা- আমরা  সেই বারতা নাগরিকদের দিতে চাই। ভারতীয় হাই কমিশনার জানান, ২০০০ সালে তারা যখন প্রথমবারের মতো এই আয়োজনটি করেছিলেন তাতে মাত্র ৭০০ জন অংশ নিয়েছিল। পরে ২০১৬ সালের দ্বিতীয় আসরে ১৫০০ জন, ২০১৭ সালে প্রায় ৫ হাজার নাগরিক যোগ দেন। ২০১৫ সাল থেকে প্রতিবছর ভারতীয় হাইকমিশন বাংলাদেশে যোগ দিবস পালন করে আসছে।
 
অনুষ্ঠানে ভিয়েতনাম, ভাটিকান সিটি,  মালদ্বীপ, শ্রীলঙ্কা, প্যালেস্টাইন দূতাবাস ও জাতিসংঘ মিশনের কূটনীতিকরা যোগ  দেন। এছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক জাহিদ হাসান এমিলি, জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুন, দক্ষিণ এশীয় গেমসের স্বর্ণপদকজয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার, অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, মেহজাবীন  চৌধুরী, আমান রেজা, সোহানা সাবা, কণ্ঠশিল্পী মেহরীন মাহমুদ যোগ দেন যোগ ব্যয়ামের সমাবেশে।
২০১৪ সালে জাতিসংঘে ভাষণ দেওয়ার সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ২১ জুন আন্তর্জাতিক যোগ দিবস হিসেবে ঘোষণা দেন। ভারতের দেওয়া এই প্রস্তাবটি ১৭৫টি রাষ্ট্রের সমর্থনের মধ্য দিয়ে এ দিবসটি আন্তর্জাতিকভাবে এখন পালিত হয়ে আসছে। পরে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দেয়।