আমের নাম হাড়িভাঙ্গা। প্রতি কেজি ১৫ থেকে ২০টাকা মাত্র। হাড়িভাঙ্গার জন্যই রংপুর দেশের মধ্যে আমের দ্বিতীয় রাজধানী হিসেবে খ্যাত। রংপুরের শত শত মানুষ এই আম চাষ করে স্বাবলম্বী হলেও এবার এই আমের বাজারে ধস নেমেছে। সুস্বাদের কারণে আমটি সারাদেশেই জনপ্রিয়। তবে রংপুরের এই হাড়িভাঙ্গা আম চাষীদের এবার কপাল ভেঙ্গেছে। গত বছর আমের ‘অফ ইয়ার’ থাকলেও এবার আমের ফলন ভালো হয়েছে, চাহিদাও বেড়েছে। তবে দাম একেইবারেই কম। প্রতি পাল্লা অর্থাৎ ৫কেজি আমের মূল্য মাত্র ১শত টাকা দরে খোলা বাজারে বিক্রয় হচ্ছে। তাহলে এই আমের আড়ৎ ও পাইকারি বাজারগুলোতে কি অবস্থা ভেবে নিন। পাইকারী বাজার বলতে রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার ১নং খোড়াগাছ ইউনিয়নের পদাগঞ্জ, পাইকারেরহাট, শুকরেরহাট, রংপুর সদর উপজেলার পালিচড়ার হাটসহ জেলা বিভিন্ন উপজেলা পাইকারি হাট, বাজার ও আড়ৎ। এসব স্থানে বড় আকারের প্রতি মণ হাড়িভাঙ্গা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা, মাঝারি সাইজের প্রতি মণ হাড়িভাঙ্গা ৬০০ থেকে ৭০০টাকা এবং ছোট সাইজ প্রতি মণ হাড়িভাঙ্গা ৫০০ থেকে ৭০০টাকায় দরে বিক্রি হচ্ছে।
রংপুর কৃষি বিভাগ জানান, সবকিছু ভালভাবে হলে শুধু হাড়িভাঙ্গা আম বিক্রি করে রংপুরের চাষিরা প্রায় ২শ’ কোটি টাকার ওপর ঘরে তুলতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা।
কৃষি অফিস সূত্র জানিয়েছে, এবার রংপুর জেলায় ৩ হাজার ৫ হেক্টর জমিতে আমের ফলন হয়েছে। এর মধ্যে হাড়িভাঙ্গার ফলন হয়েছে ১ হাজার ৪৫০ হেক্টরে। এবার আশা করা হচ্ছে, হাড়িভাঙ্গা উৎপাদন হতে পারে দেড় হাজার মেট্রিক টনের ওপর। হাড়িভাঙ্গা আমের ফলন বেশি হলেও ফজলি, কেরোয়া, এছাহাক তেলি, ছাইবুদ্দিন, আশ্বিনি, সাদা ল্যাংড়া, কালা ল্যাংড়া, কলিকাতা ল্যাংড়া, মিশ্রি ভোগ, গোপাল ভোগ, আ¤্রপ্যালি, সাদা রচি, চোষা, কপিল বাংড়ি, এছার তেলি ও আঁটিসহ হরেক প্রজাতির আমের বাম্পার ফলন রয়েছে রংপুরে। তবে হাড়িভাঙ্গার চাহিদাই বেশি।
রংপুর কৃষি বেতার তথ্য কর্মকর্তা কৃষিবিদ আবু সায়েম জানান, দেশের অন্যান্য স্থানের আম শেষ হয়ে যাওয়ার পর হাড়িভাঙ্গা আম বাণিজ্যিকভাবে বাজারে আসে। জুনের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যেই এ আম বাজারে উঠতে শুরু করেছে। কিন্তু এই আমের দাম আনেক কম।
ইত্তেফাক/এমআই
