ছেলে সত্যিকার অর্থে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে : এসি রবিউলের মা

আপডেট : ৩০ জুন ২০১৮, ১৮:১৯
গুলশান হলি আর্টিসানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের এসি রবিউলের মা বলেছেন, রবিউল অনেক পরিশ্রম করেছে। লেখাপড়া করেছে। ভাবছিলাম রবিউল অনেক বড় হবে এবং হয়েছেও। কিন্তু নিজের জীবন দিয়ে। এতদিনে ছেলের জন্য শুধু চোখের পানি ফেলেছি। এখন বুঝতে পারছি, ছেলেটি সত্যিকার অর্থে বীরত্বের পরিচয় দিয়েছে। দেশের জন্য প্রাণ দেওয়ায় দেশই তাকে এ সম্মান দিয়েছে।
 
রবিউলের পিতা আব্দুল মালেক একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থায় চাকরিরত অবস্থায় ২০০৬ সালে ৪৫ বছর বয়সে মারা যান। পিতার অকাল মৃত্যুতে গোটা পরিবার পড়ে যায় বিপাকে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলায় অনার্স ও মাস্টার্স করে ৩০তম বিস্এিসের মাধ্যমে পুলিশ বিভাগে যোগ দেন। রবিউলের চাকরি হওয়ার পর পরিবারটি খানিকটা ঘুরে দাঁড়ায়। তিনি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের সহকারী কমিশনারের (এসি) দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলেন। গত বছরের আগের বছর ১ জুলাই রাজধানীর গুলশান হলি আর্টিসানে সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন তিনি। পরিবারে এখন বেঁচে আছেন মা করিমন নেছা, স্ত্রী উম্মে সালমা, ছয় মাসের শিশুকন্যা কামরুন নাহার নায়না এবং ভাই শামসুজ্জামান শামস। 
 
২০১১ সালে রবিউল প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিকনিং লাইট অর্গানাইজেশন অফ ম্যানকাইন্ড অ্যান্ড সোসাইটি- নামে একটি  স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন। সেখানে  শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৪১ জন। প্রতিষ্ঠার পর থেকে রবিউল স্কুল ইউনিফর্ম, টিফিন, বই, স্টেশনারি, সরঞ্জাম এবং স্কুল-ভ্যানসহ স্কুলের শিক্ষার্থীদের সব খরচ বহন করতেন। তিনি শিক্ষার্থী এবং দরিদ্রদের জন্য ক্যাম্পাসে একটি আবাসিক ভবন এবং হাসপাতাল নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, অসচ্ছল বৃদ্ধদের জন্য বৃদ্ধনিবাস গড়তে চেয়েছিলেন বলে জানান তার ভাই শামস। 
 
রবিউলের স্ত্রী উম্মে সালমা জানান, রবিউল মারা যাওয়ার পর তার পরিবারের হাল ধরার মতো কেউ ছিল না। সরকারের পক্ষ থেকে আমাকে জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে রেজিস্ট্রার অফিসে শিক্ষা শাখায় । চাকরি পাওয়ার পর এখন তাদের আর্থিক স্বচ্ছলতা মোটামুটি ভাল।  
 
ইত্তেফাক/ইউবি