প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের অগ্রসরতায় পূর্ণ আস্থা ব্যক্ত করেছে বিশ্বব্যাংক। রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ যা করেছে তাতে এই দেশের সরকার ও জনগণের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাতে বিশ্বব্যাংক প্রধান ও জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশে এসেছেন। এবারে বিশ্বব্যাংক বাংলাদেশকে ৩শ’ কোটি ডলার ঋণ সহায়তা দেবে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
আজ রবিবার ঢাকায় বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিম প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীসহ কয়েকজন মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তার সঙ্গে ছিলেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তারা দু’জনই গত শনিবার ঢাকায় আসেন। রবিবার সকালে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে কড়া নিরাপত্তায় এক রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠককালে বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশ সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করেন বলে জানিয়েছে বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিস।
প্রেসিডেন্ট কিম বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও অর্থমন্ত্রী মুহিতের নেতৃত্বে বাংলাদেশ যেদিকে অগ্রসর হচ্ছে, তার প্রতি বিশ্বব্যাংকের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, এ বছর আমরা বাংলাদেশকে রেকর্ড তিন বিলিয়ন ডলার দিচ্ছি, যা বিশ্বে দ্বিতীয় বৃহত্তম। আর এটা হচ্ছে আমাদের আস্থার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত।
রোহিঙ্গাদের সংকট উত্তরণের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আরও অনেক কাজ বাকি রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, সেকারণেই আমরা দু’জন এসেছি। আমরা রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থায় খুবই উদ্বিগ্ন। আর গুতেরেস রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ করতে আগ্রহী করেছে। কারণ, এসব সমস্যা শেষ পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি সমস্যায় রূপ নয়, উন্নয়নের সংকটে রূপ নেয়। আর সেকারণেই আমরা রোহিঙ্গাদের নিয়ে কাজ শুরু করেছি।
বিশ্বব্যাংক প্রেসিডেন্ট বলেন, আমরা বিশ্বাস করি যারা মানবিক কারণে শরণার্থীদের আশ্রয় দিয়েছে তাদের যেন ভোগান্তি না হয়। তারই অংশ হিসাবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি যাতে সহায়তার অর্থ অনুদান আকারেই আসে। কারণ, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত ও সাধারণ মানুষ একাজে যথেষ্ট দৃঢ়তা দেখিয়েছেন। তারা বিপুল সংখ্যক শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছেন মানবিক ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে।
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, দু’জনের সফর খুবই ইতিবাচক এবং বাংলাদেশ সরকারের জন্য আজকের দিনটি (রবিবার) গুড ডে। বৈঠক প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, মূলত রোহিঙ্গা সমস্যা সরেজমিন দেখার জন্য জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ও বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট জিম ইয়ং কিমের এই সফর। তাদের এই সফরের মধ্য দিয়ে বিশ্বকে বোঝানো গেছে বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সমস্যা কতটা প্রকট এবং কত বড় দায় আমাদের ঘাড়ে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের এ পর্যন্ত কোনও অর্থ ব্যয় হয়নি। যা ব্যয় হয়েছে তার সবই পাওয়া গেছে অনুদান হিসেবে। এই অনুদান আরও প্রয়োজন। তবে এই দুজনের বাংলাদেশ সফর মিয়ানমারের ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। এরই মধ্যে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে মিয়ানমারে সব প্রকল্প স্থগিত করেছে বিশ্বব্যাংক।
রোহিঙ্গাদের জন্য বিশ্বব্যাংকের ৪৮ কোটি ডলার অনুদানের কথা জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ অর্থ তাদের স্বাস্থ্য, শিক্ষা, খাদ্য ও স্যানিটেশনে ব্যয় করা হবে। চলতি অর্থবছরের বাজেটে রোহিঙ্গাদের জন্য ৪শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে হবে পুরো নিরাপত্তা নিশ্চিত করে- এমন দাবির কথা দুই নেতাকে বলা হয়েছে। এ জন্য রাখাইনে একটি ‘সেফ জোন’ করা যেতে পারে। যদি জাতিসংঘ টেককেয়ার করে, তা সম্ভব। যদিও রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে মিয়ানমার সরকারের প্রতিশ্রুতি টোটালি রাবিশ। তাদের কথার ওপর বিশ্বাস রাখা যায় না।
ইত্তেফাক/এমআই
