বায়ু দূষণ তথা পরিবেশ দূষণের জন্য বিজ্ঞানীরা বেশ কিছুদিন ধরে ডিজেলচালিত গাড়ির দিকে আঙ্গুল তুলছে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবীর অনেক শহর ডিজেলচালিত গাড়ি ব্যবস্থা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করছে।
গত বছরের ১ জুন থেকে নরওয়ের অসলোতে অ্যাম্বুলেন্স বাদে ডিজেলচালিত সব ধরনের গাড়ি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। উন্নত বিশ্বের অনেক দেশ ডিজেলচালিত গাড়ি বন্ধের জন্য সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে। আর ডিজেলচালিত গাড়ির বিকল্প হিসেবে চিন্তা করা হচ্ছে ইলেকট্রিক গাড়ি। ইতোমধ্যে বিশ্বের অনেক নামী গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান নিজেদের প্রস্তুতির ঘোষণাও দিয়ে রেখেছে। আর নিত্য ব্যবহারের জন্য যাতে মানুষ ইলেকট্রিক গাড়ির প্রতি আগ্রহী হয় তার জন্য নানামুখী পদক্ষেপও নিচ্ছে দেশগুলো এবং গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলো।
আবার ক্ল্যাসিক্যাল মডেলের অনেক গাড়িকে ফিরিয়ে আনার জন্যও কাজ করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। ক্ল্যাসিক্যাল গাড়িতে ইলেকট্রিক ব্যবস্থা চালু করার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করার পাশাপাশি রাজকীয় অনেক ইতিহাস পুনর্জীবিত করতে চান তারা। পুরনো ঐতিহ্যকে মনে করিয়ে দিতে এমনই একটি রাজকীয় ক্ল্যাসিক্যাল গাড়িতে চড়েছিলেন প্রিন্স হ্যারি ও মেগান মার্কেল। গত মাসে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে যেতে তারা চড়েছিলেন ১৯৬৮ সালের বেবি ব্লু জাগুয়ার ই-টাইপ রোডস্টার মডেলের একটি গাড়িতে। মূলত পরিবেশবান্ধব গাড়ির প্রতি মানুষকে উত্সাহী করতেই তারা ঐতিহ্যবাহী মডেলের ইলেকট্রিক ভার্সন গাড়িতে চড়েছিলেন।
বৃহৎ পরিসরে ইলেকট্রিক গাড়ি নির্মাণের সাহস যারা দেখাচ্ছে, তাদের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে মার্কিন সংস্থা ‘টেসলা’। বাস্তব পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে এই গাড়ির ডিজাইনেও প্রায় সব দিকই তারা ভেবে রেখেছেন। টেসলা তাদের গাড়ির ডিজাইন করার জন্য একাধারে আধুনিক মডেলের পাশাপাশি ক্ল্যাসিক্যাল গাড়ির কথাও মাথায় রেখেছে। টেসলার ডিজাইন করার রেয়ার অ্যাক্সল এ বসানো ইলেকট্রিক মোটরটি ৩১০ কিলোওয়াটের, সর্বোচ্চ টর্ক ৬০০ নিউটনমিটার, যা কিনা প্রথম রেভোলিউশন থেকেই পাওয়া যায়।
জার্মান অটোমোবাইল ক্লাব-এর মার্টিন রুডর্ফার বলেন, আমরা আপনাদের জন্য টেসলা মডেলের এস পারফর্মেন্স গাড়িটি ভালোভাবে পরীক্ষা করেছি। হালফ্যাশানের ইলেকট্রিক লিমুজিন-টি নাকি এক ব্যাটারি চার্জে ৫০০ কিলোমিটার অবধি যেতে পারে।
একই সাথে বিশ্বের অন্যতম সুন্দর গাড়ি এনজো ফেরারি গাড়িকেও ইলেকট্রিক গাড়িতে রূপান্তরের জন্য কাজ করছে একটি গাড়ি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। জার্মান গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি ভক্সওয়াগানও পুরনো মডেলের গাড়িকে ইলেকট্রিক যুগে ফেরানোর জন্য কাজ করে যাচ্ছে। জাগুয়ার ল্যান্ড রোভারও ঘোষণা দিয়েছে ২০২০ সালের মধ্যে পুরোপুরি ইলেকট্রিক এবং হাইব্রিড ডিজাইনের গাড়ি তৈরি করতে সক্ষম হবে।
প্রিন্স হ্যারি আর মেগান মার্কেল যে গাড়িটি ব্যবহার করেছেন সেটি ১৯৬৮ সিরিজের ১.৫ জাগুয়ার ই-টাইপ রোডস্টার। পুরনোর মডেলের সেই গাড়িতে থাকা ছয় সিলিন্ডারের ইঞ্জিনের জায়গায় ব্যবহার করা হয়েছে আগের মতো ওজনের ব্যাটারি প্যাক। আর অরিজিন্যাল গিয়ার বক্সের জায়গায় বসানো হয়েছে ইলেকট্রিক মোটর। প্রিন্স হ্যারি এবং মেগান মার্কেলের ব্যবহার করা জাগুয়ার ই-টাইপ গাড়িটির মালিক হতে হলে আপনাকে খরচ করতে হবে চার লাখ ডলার।
IMG0
জাগুয়ার ইনথুসিয়াস্ট ক্লাবের জেনারেল ম্যানেজার গ্রাহাম সার্লের মতে, পুরনো মডেলের সেই গাড়িকে ইলেকট্রিক গাড়িতে পরিণত করতে পারাটা সত্যিকার অর্থে দারুণ চ্যালেঞ্জের কাজ ছিল। পরিবেশ বান্ধব গাড়ি ব্যবস্থা গড়ে তোলার জন্য এটি দারুণ এক ঘটনা।-সিএনএন।
ইত্তেফাক/মোস্তাফিজ
