বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে বেগম খালেদা জিয়াকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে নতুন নতুন নীলনকশা আটছে সরকার। সেই অশুভ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ আদালতকে সরাসরি ব্যবহার করছেন বলেই জনগণ বিশ্বাস করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির ভোটারবিহীন নির্বাচনের পর থেকে অবৈধ সরকার জন আতঙ্কে ভুগছে।
আজ বৃহস্পতিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন রিজভী ।
তিনি বলেন, আমি দলের পক্ষ থেকে সরকার ও সরকার প্রধানের এ ধরনের ঘৃণ্য আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং অবিলম্বে বেগম জিয়ার সুচিকিৎসা ও নিঃশর্ত মুক্তির জোর দাবি জানাচ্ছি।
রিজভী বলেন, দেশব্যাপী বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীরা ছাত্রলীগ ও পুলিশের নির্যাতন ও নিপীড়নের শিকার হচ্ছে। যেভাবে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে শিক্ষক ও উদ্বিগ্ন অভিভাবকদেরকে পুলিশি তাণ্ডবের শিকার হতে হয়েছে, যেভাবে শহীদ মিনারে ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রীরা লাঞ্ছিত হয়েছে- ছাত্রলীগের এসব তাণ্ডবের লগি-বৈঠারই পুনরাবৃত্তি বলে দেশবাসী মনে করে। সারাদেশই এখন বধ্যভূমি। গুম, খুন, অপহরণ, বিচার বহির্ভূত হত্যা, গ্রেফতার, নির্যাতন ও দলীয় সন্ত্রাসীদের তাণ্ডবই হলো এখন সরকারের টিকে থাকার অবলম্বন।
রিজভী আরো বলেন, ঢাকা ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনে আন্দোলনরত সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীদেরকে রক্তাক্ত করার বীরত্বে তাদেরকে একইভাবে আগামী নির্বাচনে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড করতে নির্দেশ দিয়েছেন বলে মনে হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে হামলাকারী ছাত্রলীগ নেতাদের বৈঠক নতুন করে প্রতিবাদকারীদের রক্ত ঝরাতে তাদের আরো উৎসাহিত করবে।
সরকারের উদ্দেশ্যে করে রিজভী বলেন, কোটা সংস্কার বিষয়ে প্রতারণা ছেড়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করে যৌক্তিক সমাধানের দিকে অগ্রসর হন। অবিলম্বে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারী ছাত্রলীগ ক্যাডারদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে শিক্ষাঙ্গনের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনুন।
ইত্তেফাক/কেকে
