বিএনপি কোটা আন্দোলনকারীদের কাঁধে ভর করে পানি ঘোলা করার চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ।
বৃহস্পতিবার (০৫ জুলাই) ধানমন্ডিস্থ অাওয়ামী লীগ সভানেত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ের নতুন ভবনে দলের প্রচার ও প্রকাশনা উপ-কমিটির নিয়মিত সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, কোটা আন্দোলনকারীদের ১৬টি বিকাশ এবং ৫টি রকেট একাউন্টে টাকা আসা। বিএনপি নেতাদের সঙ্গে তাদের কথোপকথন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দ্যেশ করে তাদের অশোভন বক্তব্য, সব মিলিয়ে এটি শুধুমাত্র কোটা বিরোধী বা কোটা সংস্কারের আন্দোলনের মধ্যে আর সীমাবদ্ধ নেই, এর সঙ্গে রাজনীতি যুক্ত হয়ে গেছে এবং এটি নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়ানোরও একটি প্রচেষ্টা আছে। সুতরাং সহজেই বোঝা যায় বিএনপি কোটা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কাঁধে ভর করে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ঘোলা করার চেষ্টা করছেন।
ড. হাছান মাহমুদ বলেন, ছাত্র সমাজের পক্ষ থেকে কোটা বাতিলের পক্ষে যেমন আছে, কোটা রাখার দাবির পক্ষেও আছে। মুক্তিযোদ্ধাদের সন্তানদের পক্ষ থেকে, অনগ্রসর শ্রেণির পক্ষ থেকে, নারীদের পক্ষ থেকেও শুধুমাত্র কোটা বাতিলের দাবি নয়, কোটা বহাল রাখারও দাবি আছে। সেই জন্য সরকারকে সমস্ত পক্ষের কথা শুনেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।
সাবেক বন ও পরিবেশ মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাংলাদেশ রাষ্ট্র সৃষ্টির পর থেকেই চালু রয়েছে। সাড়ে চার দশক সময় ধরে এ পদ্ধতি চালু আছে। সেই পদ্ধতি হঠাৎ করে বাতিল করা যায় না। বাতিল করতে হলেও কয়েকটি পদ্ধতি অবলম্বন করতে হয় এবং সেই লক্ষে ইতোমধ্যে কেবিনেট সেক্রেটারির নেতৃত্বে একটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সুতরাং এতোদিন পর হঠাৎ করে কোটা অান্দোলনকারীরা সরব হওয়ার পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে এবং কোটা বিরোধী আন্দোলনের বিপক্ষে যারা আছে তাদের সঙ্গে কোন কোন জায়গায় অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে তা ছাত্রলীগের ওপর দায় চাপানো সমীচীন নয়।
জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে সাম্প্রতিক অভিভাবক ও নাগরিক সমাবেশকে ইঙ্গিত করে দলের অন্যতম মুখপাত্র ড. হাছান মাহমুদ বলেন, যখন বাংলাদেশে জীবন্ত মানুষের গায়ে পেট্রল বোমা মেরে শত শত মানুষ পুড়িয়ে অঙ্গার করা হয়েছিল তখন তারা কোথায় ছিল? আর এখন হঠাৎ করে তারা কোটা অান্দোলনকারীদের পক্ষে কথা বলছে।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আমিনুল ইসলাম আমিনসহ প্রচার উপ-কমিটির সদস্যরা।
ইত্তেফাক/এমআই
