রংপুরের ৩ জেলায় বন্যা ও নদী ভাঙ্গন

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০১৮, ২২:২১

ভারতের গজলডোবায় বাঁধ দেওয়ায় পানিপ্রবাহ ও কদিন ধরে ভারি বৃষ্টির কারণে তিস্তা নদীর পানি বেড়ে যাওয়ায় রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রামেও দেখা দিয়েছে বন্যা ও নদী ভাঙ্গন। লালমনিরহাটের তিন উপজেলার অর্ধশতাধিক বাড়ি, ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরমধ্যে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে শুরু করেছেন ভাঙ্গন আতঙ্কে থাকা নদী পাড়ের মানুষ।

এদিকে, রংপুরের গঙ্গাচড়া, কউিনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার অর্ধশত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। কুড়িগ্রামেও প্রধান নদ-নদীর পানি বেড়ে প্লাবিত হয়েছে অর্ধশত  গ্রাম। টানা বৃষ্টিতে লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানির তোড়ে লালমনিরহাট সদর, আদিতমারী ও হাতিবান্ধা উপজেলার প্রায় অর্ধশতাধিক বাড়ি-ঘরসহ নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে বিস্তীর্ণ ফসলের জমি। তাই ভাঙ্গন আতঙ্কে নিজেদের শেষ সম্বলটুকু নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাচ্ছে স্থানীয়রা।

এদিকে হাতিবান্ধা উপজেলার ৩টি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামে এরমধ্যে ঢুকে পড়েছে   বন্যার পানি। এলাকার বাসিন্দারা জানান, নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তাদের বাড়ি-ঘর। সেই সঙ্গে রাস্তাও চলে গেছে। কোনো খাবার নেই, ছেলে মেয়ে নিয়ে রাস্তায় বসে আছে তরা।

খুনিয়াগাছ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান খাইরুজ্জামান মন্ডল বাদল বলেন, এই নদী ভাঙ্গনের সমস্যা দীর্ঘদিনের। অতি দ্রুতই এটি সমাধান করা না হলে, পুরো এলাকা বিলীন হয়ে যাবে।

নদী ভাঙ্গন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে ভাঙ্গন ঠেকাতে দ্রুতই ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের এক শীর্ষ কর্মকর্তা।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, ভাঙ্গনের খবর পাওয়ার পরই ওই স্থানটি পরিদর্শনে এসেছি। আজকে এই বিষয়টি জানাবো। সেই সঙ্গে দ্রুত সমাধানের জন্য কর্তৃপক্ষকে জানাবো।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জান গেছে, কুড়িগ্রামে প্রধান নদ-নদীর পানি বেড়ে অর্ধশতাধিক গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ধরলার ফেরিঘাট পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার, তিস্তার কাউনিয়া পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের চিলমারী পয়েন্টে ৩১ ও নুনুখাওয়া পয়েন্টে ৩৮ সেন্টিমিটার পানি বেড়েছে। এতে নদী তীরবর্তী অর্ধশতাধিক গ্রামে পানি ঢুকে পড়েছে। তলিয়ে গেছে ঝিঙ্গা, পটল ও করলাসহ বিভিন্ন সবজির ক্ষেত।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মোঃ সুলতানা পারভীন বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতার প্রয়োজনীয় সবকিছু দেওয়ার প্রস্তুতি আমাদের আছে।

ইত্তেফাক/নূহু