যুক্তরাষ্ট্রকে বাইরে রেখেই পারমাণবিক চুক্তি বাস্তবায়নে ইরানকে নতুন করে নিশ্চয়তা দিয়েছে পাঁচটি দেশ। এই দেশগুলো হলো চীন, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া ও যুক্তরাজ্য। আজ শুক্রবার অস্ট্রিয়ার রাজধানী ভিয়েনাতে এই পাঁচ দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠককে সামনে রেখে এই নিশ্চয়তা দেওয়া হয়। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
বুধবার ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের(ইইউ) পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, চুক্তির বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে ভিয়েনায় বৈঠকে বসবেন সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।
ভিয়েনায় সফররত ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সঙ্গে এক বৈঠকে অস্ট্রিয়ার প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার ভ্যান ডার বেলেন বলেন, অস্ট্রিয়া এবং ইইউ, ইরানের জন্য সহযোগিতা কাঠামো বজায় রাখতে প্রস্তুত।
তিনি আরও বলেন, ইইউ’র ওপর পরোক্ষ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে— ট্রাম্পের এমন হুমকি ইউরোপীয় কোম্পানি এবং ব্যক্তিদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে।
আলেক্সান্ডার ভ্যান ডার বেলেনের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ভিয়েনা সফরে রয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট রুহানি। বৈঠকে হাসান রুহানি বলেন, ইরান ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তিতে থাকবে, যদি চুক্তি স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলো সুবিধা নিশ্চিত করে।
তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত আমরা লাভবান হব, ততক্ষণ পর্যন্ত পরমাণু সমঝোতা বা জেসিপিওএ ছেড়ে আমরা যাব না।’ বিশ্বের অন্যতম তেল উৎপাদনকারী দেশ ও দ্বিতীয় বৃহত্তম গ্যাস উৎপাদনকারী দেশ ইরান, ইইউভুক্ত দেশগুলোর কাছে ইরান চুক্তি রক্ষার জন্য একটি সুনির্দিষ্ট অর্থনৈতিক পদক্ষেপ দাবি করে আসছে।
২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন, রাশিয়া ও জার্মানি পারমাণবিক চুক্তি করেছিল ইরানের সঙ্গে। বারাক ওবামা তখন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ছিলেন।
চুক্তির মূল বিষয় ছিল ইরান পরমাণু কার্যক্রম বন্ধ রাখবে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি কমিশন ইরানের যেকোনো পরমাণু স্থাপনায় যেকোনো সময় পরিদর্শন করতে পারবে। কিন্তু গত মে মাসে ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।
ইত্তেফাক/ জেআর
